

ভেড়ামারায় গৃহবধূকে হারপিক খাইয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের দাবি
মাহমুদুল হাসান চন্দন
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর সুরাইয়া খাতুন (২১) নামে এক গৃহবধূর মুখে জোরপূর্বক হারপিক ঢেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই গৃহবধূ বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ রাজুর মোড় এলাকার সোহাগ জামেল তুজোর সঙ্গে সাতবাড়িয়া এলাকার সুরাইয়া খাতুনের প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে সুরাইয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, মেয়ের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে পেশায় ভ্যানচালক তাঁর অসচ্ছল বাবা ঋণ করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে জামাতাকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েক দিন আগে বিদেশ যাওয়ার জন্য ১২ লাখ টাকা দাবি করে সুরাইয়াকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁকে বাবার বাড়ি থেকে ওই টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। টাকা না আনলে স্বামীর বাড়িতে জায়গা হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
পরে প্রায় ২৫ দিন বাবার বাড়িতে থাকার পর এক বছরের শিশুসন্তানের কথা বিবেচনা করে সুরাইয়া তাঁর নানা শ্বশুরের সঙ্গে স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর আবারও নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে সুরাইয়া এ বিষয়ে জানতে চান। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি মিলে জোরপূর্বক মুখে হারপিক ঢেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে বাড়িতে থাকা তাঁর নানি সুরাইয়ার অসুস্থ অবস্থা দেখে চিৎকার শুরু করেন। এরপর তাঁকে প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠান।
স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর থেকে সুরাইয়া কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ঘটনার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির কোনো আত্মীয় তাঁকে দেখতে যাননি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিম শেখ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved