
রবিউল হোসাইন সবুজ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ৭নং আজগরা ইউনিয়নে তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক ত্যাগী নেতাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। টি আর হারুন, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) লাকসাম উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে টি আর হারুন তৃণমূল পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে উঠে এসে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। আজগরা ইউনিয়নের রাজনীতিতে তিনি একটি সুপরিচিত নাম, যার অবদান বিএনপির সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।গত প্রায় ১৮ বছরে তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখে তার ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ওই হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রক্তাক্ত করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয় বলে জানা যায়।এছাড়াও, গত ১৭ বছরে তার বিরুদ্ধে গায়েবী ও নাম-বেনামে অন্তত ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। নির্যাতনের কারণে দীর্ঘ সময় তিনি নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারেননি। এমনকি ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, যেমন ঈদ ও জুমার নামাজেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে পারেননি বলে জানা গেছে।তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দল থেকে বিচ্যুত হননি। বরং বিএনপির আদর্শকে ধারণ করে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় থেকেছেন। আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির পরও তার এই অবিচল অবস্থানকে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকেই।বর্তমানে ৭নং আজগরা ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি জোরালো দাবি উঠেছে—দলমত নির্বিশেষে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে টি আর হারুনকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা। তাদের মতে, একজন ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাকেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়া উচিত।এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগ একজন নেতার জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি তৈরি করে। সেই বিবেচনায় টি আর হারুনের নাম এখন ইউনিয়নের সর্বত্র আলোচনায় রয়েছে।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved