
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নে বাজার ইজারা প্রদানকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে চালানো অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি নেতা শাহানুর সরকার।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে রাজাবাড়ী ব্যবসায়ী বাজার কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। রাজাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির ব্যানারে আয়োজিত এই সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহানুর সরকার নিজের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও পারিবারিক স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং রাজাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি রাজাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদল থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলা কখনোই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর পিতা মরহুম সরাফত আলী সরকার ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ন্যায়নিষ্ঠ চেয়ারম্যান। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী তিনি সব সময় সাধারণ মানুষের সেবা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত রয়েছেন। বর্তমানে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় তিনি শ্রীপুর উপজেলার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
শাহানুর সরকার অভিযোগ করেন, শ্রীপুর ও রাজাবাড়ী এলাকায় তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অবস্থান দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, "একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অখ্যাত অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো আমার সম্মানহানি করা এবং দলীয় হাই কমান্ডের কাছে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।"
তিনি ইতোমধ্যে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে অবহিত করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলেও জানান।
বহুল আলোচিত রাজাবাড়ী বাজার ইজারা প্রসঙ্গে শাহানুর সরকার স্পষ্ট তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ নিয়ম মেনে ইজারা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ১৪ জন দরদাতা সিডিউল সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র একজন দরদাতা দরপত্র জমা দেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সারোয়ার জামান (সেমু সরকার) ইজারা লাভ করেন।
তিনি বলেন, "ইজারা পাওয়া সারোয়ার জামান আমার বড় ভাই হলেও, এই প্রক্রিয়ায় আমার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো প্রভাব ছিল না। এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং স্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়া ছিল। সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত অর্থ জমা দিয়ে নিয়ম মেনেই ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এই পারিবারিক সম্পর্ককে পুঁজি করে অসত্য সংবাদ ছড়িয়ে আমাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।"
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে শাহানুর সরকার সংবাদকর্মীদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সত্য গোপন করে কারও উদ্দেশ্য হাসিল করা সাংবাদিকতার নীতি হতে পারে না। কোনো বিশেষ মহলের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।
তিনি রাজাবাড়ী ইউনিয়নের উন্নয়ন, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন এবং হুশিয়ারি দেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার চললে তিনি আরও কঠোর কর্মসূচি ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা শাহানুর সরকারের বক্তব্যের ওপর বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং তিনি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে তার উত্তর প্রদান করেন।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved