
মোঃ রেজাউল হক কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মাঝে ফিলিং স্টেশনে টোকেন বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা তেল না পেলেও, প্রভাবশালী ও পরিচিত মহলের ব্যক্তিবর্গ অনায়াসেই একাধিক টোকেন সংগ্রহ করছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বিগত কয়েকদিন ধরেই রাজারহাট উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেনের অভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। জ্বালানি সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাবে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে মোটরসাইকেলের চলাচল অনেকাংশে কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজনেও যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পেশাজীবীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মেসার্স অদ্বিতা সুধী কানন ফিলিং স্টেশনে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিজন চালককে ৩শ টাকার বিনিময়ে প্রায় ২.৪ লিটার করে জ্বালানি তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই হিসোবে প্রায় ১ হাজার ২৫০টি মোটরসাইকেল জ্বালানি পাওয়ার কথা থাকলেও টোকেন বিতরণের অব্যবস্থাপনায় তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জ্বালানি তেল সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক কৃষি কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তবে শনিবার অদ্বিতা সুধী কানন ফিলিং স্টেশনে টোকেন বিতরণের মূল দায়িত্বে ছিলেন রাজারহাট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, টোকেন বিতরণে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মানা হচ্ছে না। ভুক্তভোগী চালকরা বলেন:
"আমরা সকাল থেকে রোদে পুড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু ১টি টোকেনও কপালে জুটছে না। অথচ প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কর্মকর্তাদের পরিচিত লোকজনকে কোনো লাইন ছাড়াই ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত টোকেন দেওয়া হচ্ছে। এই স্বজনপ্রীতির কারণে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।"
অভিযোগের বিষয়ে ট্যাগ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে ফিলিং স্টেশন এলাকায় ৮শটি টোকেন বিতরণ করা হয়েছে, যা দিয়ে চালকরা ৩শ টাকার তেল নিতে পারবেন। তবে বিশেষ সুবিধার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, "চাকুরীজীবী ও এলাকার কিছু বিশেষ ব্যক্তি আছেন, যাদের বিষয়ে ওসি এবং ইউএনও মহোদয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের সীমিত সংখ্যায় কিছু টোকেন দেওয়া হয়েছে এবং তারা ৫শ টাকার তেল নিতে পারবেন।"
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে 'সীমিত সংখ্যা'র কথা বলা হলেও সাধারণ চালকদের দাবি, এই বিশেষ কোটার আড়ালেই মূলত ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি চলছে।
সার্বিক পরিস্থিতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: আল ইমরান জানান, জ্বালানি তেলের টোকেন বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, "অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। টোকেন বিতরণে কোনো স্বচ্ছতার অভাব থাকলে বা কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছতা ও সমবণ্টন নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved