
কামাল হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি, অভয়নগ
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় এক গৃহবধূর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, ব্ল্যাকমেইল এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভুক্তভোগী মুসলিমা আক্তার উর্মি (২১) তার স্বামী মেহেদী হাসান এবং রূপা আক্তার নামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গুয়াখোলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইয়াকুব আলী সরদারের কন্যা মুসলিমা আক্তার উর্মি জানান, খুলনার ফুলতলার যুগ্মীপাশা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর কন্যা রূপা আক্তার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে তাতে অশ্লীল ভয়েস সংযুক্ত করে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি গত ১৮ এপ্রিল উর্মির নজরে এলে তিনি প্রতিবাদ জানান। কিন্তু অভিযুক্ত রূপা আক্তার ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভিডিওগুলো উর্মির আত্মীয়-স্বজন এবং এমনকি তার ভাড়া বাসার মালিকের কাছেও পাঠিয়ে তাকে সামাজিকভাবে চরম হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
উর্মি দাবি করেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে তার স্বামী মেহেদী হাসানের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে। মেহেদী হাসান অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকার সিরাজ শেখের ছেলে। উর্মির অভিযোগ, মেহেদী হাসান একজন অভ্যাসগত অপরাধী এবং ‘বহু বিবাহের নায়ক’। তিনি একে একে নওয়াপাড়ার রোজিনা, খুলনার মারিয়া, নড়াইলের সুলতানা এবং দেয়াপাড়ার তানিয়াসহ আরও একাধিক নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের প্রতারণা ও নির্যাতন করেছেন। উর্মি অভিযোগ করেন, মেহেদী পরিকল্পিতভাবে রূপাকে দিয়ে এই ভিডিওগুলো ছড়াচ্ছেন যাতে উর্মি সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তাকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী তার শাশুড়ি নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, তার শাশুড়ি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। শাশুড়ির এই অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় উর্মিকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। ইতোপূর্বে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও একাধিক বিয়ের প্রমাণসহ উর্মি তার স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এছাড়া মেহেদী হাসানের অপর এক স্ত্রী সুলতানা পারভীনও নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উর্মি অভয়নগর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাত ১টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেও তিনি পুলিশের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি। পরের দিন বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না দেখে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশের সামনেও অভিযুক্তরা ভিডিও অপসারন বা ক্ষমা প্রার্থনার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মুসলিমা আক্তার উর্মি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আকুল আবেদন জানান যেন অবিলম্বে সাইবার অপরাধী রূপা আক্তার ও তার স্বামী মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সকল আপত্তিকর কনটেন্ট অনলাইন থেকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, দ্রুত ন্যায়বিচার না পেলে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগটি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন। সাইবার অপরাধের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved