

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদ-উল-আজহা আত্মত্যাগ, মানবতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক মহিমান্বিত শিক্ষা বহন করে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল। তিনি বলেন, ঈদ-উল-আজহা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি মানুষকে আত্মশুদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো ত্যাগ। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের ঘটনাকে স্মরণ করেই মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল পশু জবাই নয়, বরং মানুষের অন্তরের তাকওয়া, আত্মনিবেদন ও আল্লাহভীতি অর্জন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভাজন, সহিংসতা, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়ছে। এই বাস্তবতায় ঈদ-উল-আজহার শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ত্যাগের শিক্ষা কেবল পশু কোরবানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের অন্তরের হিংসা, লোভ, অহংকার, দুর্নীতি ও অন্যায়কে বিসর্জন দেওয়াই প্রকৃত কোরবানি।
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল বলেন, ঈদ-উল-আজহা সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। কোরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়। এতে ধনী-গরিবের মধ্যে দূরত্ব কমে আসে এবং সমাজের অবহেলিত মানুষও ঈদের আনন্দে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ঈদের সময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরের আনন্দে অংশগ্রহণ করেন, যা সামাজিক ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করে। ইসলাম শান্তি, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের ধর্ম উল্লেখ করে তিনি সকলকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এসময় তিনি কোরবানির বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু জবাই ও মাংস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ বলা হয়েছে। তাই ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে ওঠে। খামারি, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাখো মানুষ এ সময় অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঈদ-উল-আজহার শিক্ষা তরুণ সমাজের মধ্যে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। মাদক, সহিংসতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে তরুণদের দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
শেষে তিনি বলেন, ঈদ-উল-আজহার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে বিনয়, আন্তরিকতা ও মানবিকতায়। ত্যাগের মহিমা, মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির আলোয় উদ্ভাসিত হোক ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবন। ঈদ-উল-আজহা সবার জন্য আনন্দ, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved