

আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী কেওয়া বটতলা পশু হাটে সরকারি টোল চার্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে মনগড়া অতিরিক্ত হাসিল (খাজনা) আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। হাটের ইজারাদার সিন্ডিকেটের এই ধরনের ওপেন সিক্রেট অনিয়মের কারণে সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত আর্থিক খেসারত দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
আজ ২২ মে (শুক্রবার) হাটে আসা এক ভুক্তভোগী ক্রেতার রসিদ এবং শ্রীপুর পৌরসভার অফিশিয়াল টোল চার্ট পর্যালোচনা করে এই অনিয়মের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, শ্রীপুর পৌরসভার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা এলাকা থেকে আসা এক ক্রেতা কেওয়া বটতলা হাট থেকে একটি গরু ক্রয় করেন। হাটের ১৬০৫ নম্বর রসিদ অনুযায়ী পশুটির প্রকৃত বিক্রয় মূল্য লেখা হয়েছে ৮৫,০০০ (পঁচাশি হাজার) টাকা। শ্রীপুর পৌরসভা কার্যালয়ের অনুমোদিত ও বিজ্ঞাপিত টোল রেট (ক্রমিক নং ১) অনুযায়ী, ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা পর্যন্ত পশুর বিক্রয়মূল্যের জন্য নির্ধারিত টোল বা খাজনা সর্বোচ্চ ৮০০/- টাকা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই সমান হারে এই টোল পরিশোধ করার কথা।
অথচ, কেওয়া বটতলা হাটের ইজারাদারের লোকজন সরকারি সেই নিয়মকে তোয়াক্কা না করে রসিদেই সরাসরি ক্রেতার খাজনার ঘরে ১,০০০ (এক হাজার) টাকা লিখে তা আদায় করেন। যা সরকারি টোল চার্টের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সরাসরি অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ।
হাটে আসা একাধিক সাধারণ ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কেওয়া বটতলা হাটে কোনো সরকারি মনিটরিং বা চার্ট ঝুলিয়ে রাখার নিয়ম মানা হচ্ছে না। ইজারাদারের লোকজন ক্রেতাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এভাবে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী এই হাটে দ্রুত বাজার মনিটরিং কমিটি বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো না হলে সাধারণ পশুর ক্রেতারা প্রতিনিয়ত এভাবে প্রতারিত ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে থাকবেন। সাধারণ ক্রেতারা অবিলম্বে এই টোল জালিয়াতি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved