

আশিকুর রহমান সবুজ,শ্রীপুর (গাজীপুর):
গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাকশ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এখনো থামেনি। গত শনিবার লিজার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিলকে কেন্দ্র করে পুনরায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শনিবার সকালে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার সামনে শ্রমিকরা সমবেত হলে কারখানার সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় লাঠিসোঁটা হাতে বহিরাগতদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
এই ঘটনায় ট্রিপল অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস কর্তৃপক্ষ পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলাগুলোতে মোট ১,১০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
শ্রমিকদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিলাদ মাহফিলে অংশ নিতে এসেছিলেন, কিন্তু বহিরাগতদের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, মামলায় বেশিরভাগ আসামিই অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী, তবে তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকেই শ্রীপুরে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানিয়েছেন যে, দায়ের করা মামলাগুলোর বেশিরভাগ আসামিই অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু শ্রমিক জড়িত থাকলেও তাদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত শ্রমিক নন। বর্তমানে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত ভিডিও বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার কাজ অব্যাহত রেখেছে এবং ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved