

আশিকুর রহমান সবুজ, স্টাফ রিপোর্টার,শেরপুর:
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি মৌজায় দীর্ঘ চার দশক ধরে ভোগদখলীয় পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন ভুক্তভোগী সাধনা দিউ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের জমিতে প্রবেশ করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালতের বিচারাধীন প্রক্রিয়া এবং সিআইডির দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনকে উপেক্ষা করে একটি পক্ষ জমিটি অবৈধভাবে দখলে রেখেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, কাকরকান্দি মৌজার ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত ২.০৯ একর জমি সাধনা দিউ দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। গত বছরের (২০২৫) ৮ ফেব্রুয়ারি মগর আলী, সমেদ আলী ও মোতালেবসহ কয়েকজন বিবাদী জোরপূর্বক ওই জমিতে প্রবেশ করে অবৈধভাবে চাষাবাদ শুরু করে। এতে বৈধ মালিক বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাধনা দিউ নালিতাবাড়ী থানায় একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি, শেরপুর জেলা। তদন্তকারী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র (আরএস ও বিএস খতিয়ান) যাচাই এবং স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত পক্ষটি সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জমির মালিকানা দাবি করছে। প্রতিবেদনে বিবাদীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির (Penal Code, 1860) জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক একাধিক ধারায় অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মগর আলী দাবি করেন, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তবে সিআইডির তদন্ত চলাকালীন কিংবা বিজ্ঞ আদালতে এর সপক্ষে কোনো বৈধ স্বত্বাধিকারের দলিল (Deed of Title) বা দাখিলা উপস্থাপন করতে পারেনি বিবাদী পক্ষ।
এদিকে সিআইডির প্রতিবেদনে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনো জমির দখল ফিরে পাননি সাধনা দিউ। উল্টো বিবাদী পক্ষের অব্যাহত হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করা হয়েছে।
শেরপুর জজ কোর্টের আইনজীবীরা জানান, ফৌজদারি মামলায় সিআইডির এই তদন্ত প্রতিবেদন সাধনা দিউয়ের পক্ষে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি। এখন বিজ্ঞ আদালতের পরবর্তী আদেশ এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমেই প্রকৃত মালিকের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত ভোগদখল পুনরুদ্ধার সম্ভব। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক ও বিচারিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved