

মাহফুজুর রহমান ইকবাল, স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেতজুরী গ্রামে শত বছর ধরে বসবাস করে আসা শতাধিক পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মামলা, হামলা, হুমকি ও হয়রানির প্রতিবাদে এবং বসতভিটা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বেতজুরী, গড়গড়িয়া পুরাতন বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী-পুরুষসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতজুরী এলাকায় বসবাস করে আসছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাসের কারণে এসব বসতভিটার সঙ্গে তাদের পারিবারিক স্মৃতি, কবরস্থান, মসজিদ-মাদ্রাসা, সামাজিক বন্ধন ও জীবন-জীবিকা জড়িত। তাদের দাবি, বসতভিটার মালিকানা ও দখলের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এরপরও একটি প্রভাবশালী মহল বিভিন্নভাবে তাদের জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক এরশাদ সরকারের আমলে কর্নেল (অব.) রেজাউল করিম নামেএক ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে কিছু জমি বন্দোবস্ত নেন। তাদের দাবি, ওই বন্দোবস্তের জমি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীন এলাকায় রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি নকশা বা স্কেচ ম্যাপ পরিবর্তনের মাধ্যমে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে স্থানীয়দের বসতবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি ১৫-১৬টি গাড়ি ও শতাধিক লোকজন নিয়ে এলাকায় আসেন। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় নারী-পুরুষদের ডেকে নিয়ে মঞ্জুরুল করিম রনি দাবি করেন, তিনি কর্নেল রেজাউল করিমের ওয়ারিশদের কাছ থেকে জমি কিনেছেন। এরপর দ্রুত জমি খালি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। কয়েকজন ভুক্তভোগীকে ঢাকায় ডেকে নিয়েও জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, মঞ্জুরুল করিম রনির ফুফাতো ভাই ওমর ফারুককে কর্নেল রেজাউল করিমের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে আম-মোক্তারনামা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে, আবার কখনো আদালতে মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং হয়রানিমূলক মামলা, হুমকি ও চাপ বন্ধ করতে হবে। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, হুমকি-হয়রানি বন্ধ এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তারা। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের শত বছরের বসতভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানান। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved