

মোহাম্মদ রুমি শরীফ বিশেষ প্রতিনিধি
পর্যটননগরী কুয়াকাটায় সরকারি জমি দখলের অভিযোগ যেন থামছেই না। পৌরসভার চৌরাস্তার দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন জায়গা দখল করে একের পর এক দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এসব স্থাপনা বাড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, চৌরাস্তার দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে বেড়িবাঁধ ঘেঁষে প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনার অনেকগুলোতে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো দোকান বা জায়গা বাৎসরিক দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তিতে দেওয়া কিংবা বেচাকেনা করা হচ্ছে। তবে কথিত এসব লেনদেন ও স্থাপনাগুলোর বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।দখলে সংকুচিত হচ্ছে সরকারি জায়গা, বাড়ছে পর্যটকদের ভোগান্তি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় স্থাপনা গড়ে উঠলেও কার্যকর নজরদারি বা স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযান চোখে পড়ছে না। ফলে একদিকে যেমন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি সম্পত্তি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন পরিবেশ।
বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে চৌরাস্তা থেকে সমুদ্রসৈকতের দিকে যাতায়াতের সময় এসব দোকানপাট ও স্থাপনার কারণে মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড়ের পাশাপাশি যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন কুয়াকাটার শহররক্ষা বাঁধ উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা অবকাঠামো। বাঁধসংলগ্ন সরকারি জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা গড়ে উঠতে থাকলে ভবিষ্যতে বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ, পানি নিষ্কাশন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
তাদের প্রশ্ন—সরকারি জমি যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়, তাহলে দিনের পর দিন এসব জায়গায় নতুন নতুন স্থাপনা কীভাবে গড়ে উঠছে ? কার অনুমতি বা আশ্রয়ে এসব স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে? আর কথিত লাখ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগেরই বা ভিত্তি কতটুকু?
আগেও উঠেছে অবৈধ স্থাপনার অভিযোগ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ও জিরো পয়েন্টসংলগ্ন এলাকায় সরকারি জায়গা এবং বেড়িবাঁধের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার বিষয়টি এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ বা অভিযান পরিচালনার পরও কোনো কোনো এলাকায় আবার নতুন করে স্থাপনা গড়ে ওঠে। এতে দীর্ঘমেয়াদে কুয়াকাটার পর্যটন পরিকল্পনা ও পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নীরবতায় বাড়ছে প্রশ্ন সরকারি জমি দখল, বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ এবং কথিত অর্থের বিনিময়ে দোকানঘর হস্তান্তরের অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে।তবে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।দ্রুত তদন্ত ও দখলমুক্ত করার দাবি স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে চৌরাস্তা ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন পুরো এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির সীমানা নির্ধারণ, দখলকৃত জায়গার তালিকা তৈরি এবং স্থাপনাগুলোর বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা দখলমুক্ত করে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুয়াকাটার মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে সরকারি জমি যদি এভাবে ধীরে ধীরে বেদখল হতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে পর্যটননগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সৌন্দর্য রক্ষা কতটা সম্ভব—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved