

স্টাফ রিপোর্টার
৩ দিন কারাভোগের পর আপসের উদ্যোগে জামিনে মুক্তি, অভিযুক্ত ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার।
বিয়ের আগে অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় গোপন, বিয়ের পরও সেই সম্পর্ক বজায় রাখা, যৌতুক হিসেবে গাড়ি দাবি এবং স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার চিকিৎসক ডা. রাব্বু হোসেন মুক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আরিফা সুলতানা আইরিন (৩১) আদালতে মামলা করেছেন। মামলার পর তিন দিন কারাগারে থাকার পর আপসের উদ্যোগে জামিনে মুক্তি পান অভিযুক্ত চিকিৎসক।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের ৮ নম্বর আদালতে মো. এহসানুল ইসলামের আদালতে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০২৫)-এর ১১(গ) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাঁদের বিয়ে হয়। বাদী পেশায় একজন চিকিৎসক। বিয়ের পর স্বামীর আচরণে নানা অসংগতি দেখতে পান তিনি। একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে অন্য এক পুরুষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি গোপন রেখেই তাঁকে বিয়ে করেছিলেন অভিযুক্ত।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তের বাসায় বিভিন্ন আপত্তিকর জিনিসপত্র ও পরিস্থিতি দেখে বাদীর সন্দেহ আরও বাড়ে। এ বিষয়ে স্বামীর কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এমনকি নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করতে বাধ্য করার হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বর্ণনায় আরও বলা হয়, বিয়ের সময় যৌতুক না পাওয়ার অজুহাতে অভিযুক্ত একটি গাড়ি কিনে দেওয়ার দাবি করেন। বাদী এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে মেয়ের সংসারের কথা চিন্তা করে বাদীর বাবা অভিযুক্তের বাসার পাশে তাঁর নামে একটি জায়গাও কিনে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্ত কিছুদিন ভালো আচরণ করলেও গোপনে অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এমন কাজে জড়াবেন না বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবারও নির্যাতন ও যৌতুকের চাপ সৃষ্টি করেন।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্ত নিজের ব্যক্তিগত চলাচলের জন্য একটি প্রাইভেটকার কিনে দেওয়ার দাবি করেন। এ সময় বাদীর মা হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তিনি গাড়ি কিনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত বাদীর চুলের মুঠি ধরে কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাদীর অসুস্থ মায়ের জন্য জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও মামলার নথিতে কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
এসব ঘটনার পর আইনের আশ্রয় নেন আরিফা সুলতানা আইরিন। মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে তিন দিন কারাগারে থাকতে হয়। পরে আপসের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত থেকে জামিন পান তিনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত ডা. রাব্বু হোসেন মুক্তারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved