
কাজল মালেক
১৪শ পর্ব
এবারের ঝড়ের তান্ডবে বহু ঘরবাড়ি উড়ে গেছে। গাছপালা, বাঁশঝাড় উপড়ে পড়েছে,অসংখ্য গাছের ডাল ভেঙ্গেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এমন ঝড় তুফান হয়নি। সাধারণ মানুষের দুঃখের সীমা নেই। প্রধানবাড়ির বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে নিতে এসেছে বুলিয়া মুচি। এবাড়ির বাঁধা জুতা সেন্ডেল পালিশকারী। তার ঘরের চাল ওড়ে গেছে। অলি প্রধান তাকে কিছু চালডাল ও পয়সাও দিয়ে দিলেন। বুলিয়া করজোড়ে বলে, বাবু, আমার কি অইবে, বালবাচ্চা লইয়া কোনহানে যাইমু। হুনতাছি, হিন্দুগরে নাকি দেশ থাইকা খেদাই দিতাছে।" অলি প্রধান তাকে সান্ত্বনা দেন, " আমরা আছিনা। ডরাও ক্যান। কার বড়ো সাহস তুমগরে কিছু কয়। আমারে জানাইবা।" কপাল ঠুকে প্রণাম জানিয়ে বাঁশ ও চালডাল নিয়া রাম রাম বলতে বলতে বিদায় হয় বুলিয়া।
পাকিস্তানের শাসকবর্গ পূর্ব পাকিস্তানের সীমানায় ছাড়ের ব্যাপারে তেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। বরং তারা পাঞ্জাবের সীমানা বাড়াতে ব্যস্ত। সেখানে এক মাইল জায়গার বিনিময়ে পূর্ব বাংলার ৫০ মাইল জায়গা ছেড়ে দিতে রাজী।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতার চুক্তি বা ক্ষমতা হস্তান্তরের যে চুক্তি (Indian Independence Act 1947) হয় তাতে স্বাক্ষর করেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতিনিধি (ভাইসরয়) লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।
এটি কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ছিল না। এটি ইংরেজ শাসনের অবসানকল্পে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়া একটি আইন, যার মাধ্যমে ভারত স্বাধীনতা পায়। সাথে সাথে মুসলমান ও হিন্দুদের সংখ্যা বিবেচনায় ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়।
১৯৪৭ সালে ১৪ আগষ্ট করাচীতে স্বাধীনতার চুক্তি স্বাক্ষর হয় বলে পাকিস্তান ১৪ আগষ্ট কে স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করে।
অধিকন্তু ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট
পবিত্র রমজান মাসের ২৭তম রাত (লাইলাতুল কদর) ছিলো, যা মুসলমানের কাছে একটি পবিত্র দিন। সেজন্য ১৪ আগস্টকে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বেছে নেওয়ার দাবী জোরালো হয়। এছাড়াও এখানে সময় ও তারিখের পার্থক্যও বিবেচিত হয়েছিলো। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাত ১১:৩০ মিনিটে (পাকিস্তান সময়) নতুন রাষ্ট্র গঠিত হয়, যা ভারতের সময় অনুযায়ী ১৫ আগস্টের মধ্যরাত ছিল। সে হিসেবে ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট, স্বাধীন হয়। আর পাকিস্তান তার ঠিক ১ দিন আগে ( এক ঘন্টার ব্যবধানে) স্বাধীনতা লাভ করে। এর আরও একটি যৌক্তিক কারণ ছিলো। যেহেতু বৃটিশ পার্লামেন্ট সমগ্র ভারতকে স্বাধীনতা দেয়ার আইন পাশ করেছে এবং একটি মাত্র চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করতে হবে, সেখানে পাকিস্তানের কোন উল্লেখ ছিলো না,সেজন্য ভারতকে আগে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে হয়। কারণ এর পরে পাকিস্থান সৃষ্টি হওয়া সম্ভব ছিল না,আইনি জটিলতা দেখা দিতো। মূলত কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতার মাধ্যমে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সৃষ্টি। বৃটিশরা তার মধ্যস্থতা করেছে মাত্র।
১৫ আগস্টকে ভারতের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণার পশ্চাতে সেই সময় ভারতের ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের অন্য একটি উদ্দেশ্যও কাজ করেছিলো। ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জাপানের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। মাউন্ট ব্যাটেন এই দিনটিকে চির স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন। সেজন্য তিনি জওহরলাল নেহরুকে ভারতের স্বাধীনতার দিন হিসেবে ১৫ আগস্টকে বেছে নিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। নেহরুর সঙ্গে মাউন্ট ব্যাটেনের বিশেষ করে লেডী মাউন্ট ব্যাটেনের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো।
স্বাধীনতার সাথেই ভারত বিভক্ত হয় এবং পাকিস্তান নামে আরও একটি নতুন রাষ্ট্র জন্মলাভ করে। তখনই কিছু বিষ্ময়কর ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে,যার প্রভাব আজও পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বিরোধ ও বিভেদ জিইয়ে রেখেছে। দুই পক্ষে বেশ কয়েকবার বড়ো ধরনের যুদ্ধে জড়িয়েছে। এর একটি অন্যতম কারণ দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করণে ভারতের অযাচিত হস্তক্ষেপ যা অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং ত্রুটিপূর্ণ মনে হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিকভাবে যতোটা দক্ষতা প্রদর্শনের প্রয়োজন ছিলো জিন্নাহ ও লিয়াকত আলীরা তা না করে বরং ক্ষমতার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কে বড়লাট আর কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তাই নিয়ে টানাপোড়েনের সুযোগে ভারত তার কার্যোদ্ধার করে নেয়। এ বিষয়ে ভারতকে কুটনৈতিক চালে এগিয়ে দেন মাউন্ট ব্যাটেন। প্রখর বুদ্ধিমান, বাস্তবতার নিরীখে বিচক্ষণ ও সচেতন নেতা ছিলেন পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু। স্বাধীনতা লাভের পর যখন পাকিস্তান ক্ষমতার লড়াই করছে তখন নেহরু ছুটে গেলেন ব্যাটেনের কাছে। বল্লেন, মিঃ ভাইসরয়,আমরা দেশ স্বাধীন করেছি সত্য, এর জন্য সংগ্রাম, লড়াই, আত্মত্যাগ, জীবন বলীদান করেছি, সবই সত্য। আমরা তা পারি কিন্তু দেশ চালানোর মতো,একটা অগঠিত আকস্মিক সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা এমনকি যোগ্যতাও আমরা অর্জন করিনি। অন্তত কিছুদিন আপনাকে ভারতের দায়িত্ব নিতে হবে। আপনি ভাইসরয় হিসেবে আরও কিছুদিন থাকুন। আমরা প্রশাসন কিভাবে চালাতে আপনার নিকট থেকে শিখবো।" যাদের সঙ্গে দীর্ঘকাল সংগ্রাম করে জীবন ও রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন হলো সেই শত্রু বা প্রতিপক্ষের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত বিষ্ময়কর হলেও তা ছিলো সুদূরপ্রসারী কুটনৈতিক সাফল্যের বীজ বপন। রক্তে যাদের গণতন্ত্র সেই বৃটিশের অভিবাসী এক শাসক মাউন্ট ব্যাটেন পরম যত্নে ভারতের প্রতিষ্ঠালগ্নের প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণ করে দিয়ে গেলেন। অত্যন্ত চতুর এবং কুশলী খেলোয়াড়ের মতো তিনি প্রথমেই ভারতের সীমানা বর্ধিত করণের মিশনে ব্রতী হলেন। ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণের জন্য ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে সিরিল র্যাডক্লিফের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘বাউন্ডারি কমিশন’। জনবসতির ধর্মীয় সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে পাঞ্জাব ও বাংলাকে (পূর্ব ও পশ্চিম) ভাগ করে স্বতন্ত্র যে রাষ্ট্রের জন্ম হলো তার নামই পাকিস্তান। এই বিভাজনের ফলে পাঞ্জাবের পশ্চিমাংশ ও বাংলার পূর্ব অংশ পাকিস্তান এবং বাকি অংশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। পাকিস্তান আবার দুই অংশে বিভক্ত। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে মাঝখানে দুই হাজার মাইলের ব্যবধান রেখে দুটি অঞ্চল নিয়ে স্বতন্ত্র একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে।
ভারত বিভক্তিকরণ পদ্ধতি ছিলো পক্ষপাতদুষ্ট, ত্রুটিপূর্ণ ও চরম সহিংসতায়ভরা। যে কারণে ব্যাপক দাঙ্গা ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে নিজের ভিটামাটি ছেড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে হয়েছিলো। তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরদেশে স্থানান্তরিত হয়ে নাগরিকত্ব বদল করতে হয়।
১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার সময় সরকারিভাবে ভারতবর্ষে ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্য ছিলো। এগুলোর মধ্যে মাত্র ২১টির বাস্তবিক সরকার ছিলো যার মধ্যে চারটি বৃহত্তম। এগুলো হলো হায়দ্রাবাদ, মহীশূর, বরোদা এবং জম্মু ও কাশ্মীর। এই রাজ্যগুলো বৃটেনের নিয়ন্ত্রণাধীনে ছিলোন,ছিলো স্বশাসিত।
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের পরামর্শে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে এই রাজ্যগুলোকে ভারতীয় ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলে। তবে ধর্মের ভিত্তিতে রাজ্যগুলোকে যুক্ত করার বিধান উপেক্ষা করে অনেকটা জবরদস্তিমূলক হায়দ্রাবাদ, জুনাগড় এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো। আকস্মিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শাসক নিজামের হায়দ্রাবাদকে ভারত তাদের দখলে নিয়ে নেয়। দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ কাশ্মীর পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু ভারত প্রশ্ন তুললো কাশ্মীর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অতএব সে দেশের জনগণ নয়, শাসনকর্তা যেদিকে থাকার সিদ্ধান্ত নেবে তাই বলবৎ হবে। সেসময় কাশ্মীরের শাসক ছিলেন রাজা হরি সিং। মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল হলেও রণবীর সিংয়ের নাতি হরি সিং, যিনি ১৯২৫ সালে কাশ্মীরের সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন, তিনিই ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং পরবর্তীকালে ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যের বিভাজনের মাধ্যমে নবগঠিত স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান গঠিত হওয়ার সময় পর্যন্ত কাশ্মীরের শাসক ছিলেন। হরি সিং হিন্দু হলেও কাশ্মীরীরা বেশির ভাগ মুসলমান। তাই ভারতের সাথে কাশ্মীরের অন্তর্ভূক্তির এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান মানতে পারেনি। ওদিকে আবার হায়দরাবাদের শাসক নিজাম মুসলমান। তিনি হায়দরাবাদকে পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। কিন্তু অতর্কিত আক্রমণ করে হায়দরাবাদ দখল করে নেয় ভারত। কাশ্মীরেও একই ঘটনা ঘটে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা স্বত্বেও পাকিস্তানের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নিজেদের মধ্যে আত্মঘাতী কলহের সুযোগে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে প্রথম যুদ্ধের সূচনা (১৯৪৭-৪৮) হয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ভারত ঘোষণা করে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। সে গণভোট আজও অনুষ্ঠিত হয়নি। স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরীরা তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখলেও পরাশক্তি ভারতের দমন-পীড়নের কাছে তারা অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে। অধিকন্তু ভারত জম্মু ও কাশ্মীরকে তাদের অংগরাজ্য হিসেবে ঘোষণা করে।
কাশ্মীরের একটি ক্ষুদ্র অংশ পাকিস্তানের অধিকারে থেকে যায়। এটি আজাদ কাশ্মীর নামে স্বীকৃতিহীন সীমিত শক্তির স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ভারত মনে করে পাকিস্তান এটি অবৈধ দখল করে রেখেছে। তাই নাম দিয়েছে অধিকৃত কাশ্মীর।
স্বাধীন পাকিস্তানের উৎসব হবে। সেখানে কুচকাওয়াজে অংশ নেবে বাছিরের প্যারেড দল। তারজন্য
ক'দিন থেকে কুচকাওয়াজের অনুশীলন চলছে। জুমন এই প্যারেড বা কুচকাওয়াজ দলের অন্যতম চৌকস সদস্য। এদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে দেশে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার খবর আসছে। যেখানে মুসলমান বেশি সেখানে হিন্দুদের মেরেধরে তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। সে অবর্ণনীয় মর্মান্তিক কাহিনী। ছোটো ছোটো শিশুদের অসহায় কান্না, বিতাড়িত হিন্দু যুবক-যুবতীদের অসম শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধে তারা শুধু মার খাচ্ছে। বয়ষ্করা এক কাপড়ে বাড়ি ছেড়ে অজানা নতুন ভারতের দিকে পাড়ি জমাচ্ছেন। উল্টো চিত্র হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় সেখানে। আসাম এবং ভারত সীমারেখার পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ বাংলার পশ্চিমাঞ্চল থেকে নির্যাতিত মুসলমানরা সর্বস্ব রেখে বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পূর্ব বাংলায় চলে আসছে। মৃত্যুর,অত্যাচারের আর সম্পত্তি বিসর্জনের এমন নির্দয় স্বাধীনতা চায়নি কেউ। কী ভয়ানক নির্মমতা। কাল যে ছিলো নিকট প্রতি, উৎসবে পার্বনে যাদের উপস্থিতি ছিলো অনিবার্য সেই ভালবাসার মানুষগুলো হঠাৎ শত্রুতে পরিণত হলো। প্রতিবেশীর যে শিশুটিকে কাল কোলে নিয়ে যে চুমো খেয়েছে আজ সেই একই মানুষ নিষ্পাপ অবোধ শিশুটিকে শূন্যে ছুঁড়ে আছরে মারছে। মানবতা,মানবাধিকার,মায়ামমতা, নীতিবোধ উধাও হয়ে গেছে।
এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য পাকিস্তান উৎসবের দিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। গাজীপুরের দিকে দাঙ্গা হাঙ্গামার তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এই অঞ্চলে হিন্দুদের বসত কম। কয়েকটি উপজাতীয় মান্দাই পরিবার আছে। এরা অত্যন্ত নিরীহ ও দরিদ্র। তাদের প্রতি এলাকার মানুষের বরং সহানুভূতি বেশি।
আজ সেই মার্চপাস্টের দিন, পাকিস্তানজুড়ে উৎসবের আমেজ। পাকিস্তান রেডিও ঘোষণা করেছে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সর্বত্র যুগপৎ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে,স্বাধীতার উৎসব চলবে। প্রধানবাড়ির দক্ষিণ পাশ দিয়ে ডিস্ট্রিক বোর্ডের প্রশস্ত রাস্তাটি সামনে পূর্বদিকে শ্রীপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত এবং পেছনে উত্তর পশ্চিমে কাচিনা হয়ে বাটাজোড়বাজার পর্যন্ত চলে গেছে। এটি কাঁচামাটির হলেও সুপরিসর এবং অপেক্ষাকৃত উঁচু করে তৈরি করা সড়ক। এর দুইপাশে কোথাও ধানক্ষেতের নিচু জায়গা কোথাও আম,জাম ও কাঁঠালগাছের সারিবদ্ধ সমারোহ, কোথাও ঘনগভীর শালগজারী,কড়ুইয়ের নিবিড় অরণ্যভূমি।এই রাস্তা দিয়ে আজ সকালে ব্যান্ডপার্টীর বাদনের তালে তালে মার্চপাস্ট চলবে। এই মার্চিং গাজীপুরের ছোট ছোট রাস্তাগুলো ঘুরে ঘুরে প্যারেডদল ফিরে এসে গাজীপুর হাট সংলগ্ন পাঠশালার সামনে জড়ো হবে। এই দলটিই বাছির কমান্ডারের নেতৃত্বে যাবে জয়দেবপুরের রাজবাড়িতে। সেখানে সরকারি অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজে অংশ নেবে। মার্চপাস্ট হচ্ছে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানানো এবং স্যালুট প্রদান, কুচকাওয়াজের বিন্যাস সম্পর্কে ভাষ্য, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের অপরূপ সংমিশ্রণ, যা অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
তহরজান তার বাচ্চা হাসেমকে কোলে নিয়ে ঘরের দক্ষিণের জানালা খুলে দাঁড়িয়ে আছে। তার পাশে এসে দাঁড়ালো আসন্নপ্রসবা জয়গুন। তারা মার্চপাস্ট দেখবে। দেখবে এতে অংশ নেয়া জুমনের
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved