

মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
ঘুষ, প্রতারণা ও ভয়ভীতি, একই ফাঁদে অন্তত ১৫ গ্রাহক; চেক জালিয়াতিতে নতুন করে হয়রানির অভিযোগ। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের এক সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয়ংকর দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকদের অজ্ঞাতে বা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নামে একাধিক ঋণ তুলে সেই অর্থ আত্মসাৎ করে গড়ে তোলা হয়েছে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নওয়াপাড়া অগ্রণী ব্যাংক শাখার সাবেক কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একটি সুপরিকল্পিত চক্রের মাধ্যমে ঋণ জালিয়াতি করে আসছিলেন। তিনি বিভিন্ন গ্রাহককে সহজে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের উৎকোচ আদায় করতেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তত ১৫ জনের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ভোক্তা ঋণ তোলা হয়, যার একটি বড় অংশই আত্মসাৎ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এসব ঋণের বিপরীতে প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একতারপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রী লখাই চন্দ্র দাস অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তাকে একাধিক ঋণ নিতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে আরও ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় অতিরিক্ত ঋণের বোঝা। চেক জালিয়াতি ও মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি অভিযোগে উঠে এসেছে, একপর্যায়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে একটি চেক নিয়ে তা ফেরত না দিয়ে উল্টো সেই চেক ব্যবহার করে মামলা দায়ের করা হয়। এমনকি আদালতে হাজিরা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। ভুক্তভোগীর দাবি, ভাড়াটে লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। সে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল জমি লিখে দেওয়ার কথা বলে। এখন টাকা ফেরত দিতে না পেরে উল্টো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। যেকোনো সময় নতুন করে হয়রানি বা হামলার আশঙ্কা করছেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved