
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন, শিক্ষার্থীসেবার মান বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (০৮ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১১:০০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুরস্থ মূল কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সভাটি পরিচালিত হয়। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাউবির আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব এবং আধুনিকায়ন করা। সভার শুরুতে উপাচার্য মহোদয় আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহের প্রধানদের কাছ থেকে প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও পরামর্শ আহ্বান করেন।
জুমের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ তাঁদের নিজ নিজ অঞ্চলের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন-জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং গ্রামীণ পর্যায়ে তথ্য পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ।কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ।জনবল কাঠামোর সংস্কার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বাউবিকে একটি আদর্শ ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা প্রদান করেন:উপাচার্য বলেন, "সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা সম্ভব না হলেও, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্মানজনক ও সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।" শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করাকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে আরও কর্মমুখর করতে উপযুক্ত স্থানে দক্ষ জনবল পদায়ন এবং জনবল কাঠামোর সুষম বণ্টনের ওপর তিনি জোর দেন।প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অনলাইন সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ নিশ্চিত করা, পরীক্ষা ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নকলমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন।বাউবির বহুমাত্রিক একাডেমিক প্রোগ্রামগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর প্রচারণা ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলেন।
উপাচার্য স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাউবির প্রধান আয় শিক্ষার্থীনির্ভর। তাই শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টি অর্জনই হবে মূল লক্ষ্য। তথ্য প্রদানে যে সকল ঘাটতি রয়েছে তা দ্রুত কাটিয়ে উঠে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া স্টাডি সেন্টারের সমন্বয়কারী ও টিউটরদের সঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর যোগাযোগ রাখার জন্য আঞ্চলিক প্রধানদের নির্দেশ দেন।
উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁদের মূল্যবান মতামত প্রদান করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন:অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন),অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম, ট্রেজারার,টি.এম. আহমেদ হুসেইন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার,অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তালেব, পরিচালক (এসএসএস),মোহাম্মদ আলী, পরিচালক (পিপিডি),মোঃ হাবিবুল্যাহ মাহামুদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।এ ছাড়া বাউবির সকল আঞ্চলিক পরিচালক এবং উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধানগণ ভার্চুয়ালি এই সভায় যুক্ত ছিলেন।
উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাউবিকে একটি আধুনিক, মানবিক ও গতিশীল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা সম্ভব। এই ভার্চুয়াল সভাটি বাউবির প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved