

স্টাফ রিপোর্টার,মোঃ রেজাউল হক কুড়িগ্রামঃ-
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউপি'র মুছল্লীপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় একই পদে দুই শিক্ষকের এমপিওভুক্তির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের এক নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মনীতি অমান্য করে এক পদের বিপরীতে কীভাবে দুজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) তুলছেন, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদ্রাসার এসিস্ট্যান্ট সহকারী ক্লার (এসিও) পদে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে দুজনকে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট কোনো একক পদে একই সময়ে একাধিক ব্যক্তির এমপিওভুক্ত হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে,
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জালিয়াতি করে- ২০২৪ইং সালে নয়ন মিয়া(২৮) কে পৃথক সময়ে এমপিও শিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রথম 'এসিও' পদে শাহআলম (৪৫) কে ২০০১ইং সালে এমপিও শিটে অন্তর্ভুক্ত করার পর একই পদে নয়ন মিয়া(২৮) কে এমপিও শিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে এই দুই ব্যক্তিই নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার টাকা উত্তোলন করে আসছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের শামিল।
এলাকার সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকেরা জানান, গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার আলো ছড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন জঘন্য জালিয়াতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মাদ্রাসার সাবেক সুপার 'এটিএম আমজাদ হোসেন' এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেনি ও বর্তমান সুপার আলমগীর হোসেনের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না, অফিসে যোগাযোগ করেন বলে কেটে দেন এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে।
এবিষয়ে রাজারহাট উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, একই পদে দুইজনের এমপিওভুক্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখবো। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এক পদে দু'জন এমপিও পাওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এবং কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার (মাধ্যমিক) শফিকুল ইসলাম বলেন> "আইন ও বিধি অনুযায়ী এই জটিলতা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্হা নেওয়া হবে এবং কোন অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির এই মহোৎসব বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সচেতন মহল।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved