

নজমুল হক, গাজীপুর
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে “ইনোভেট টুডে, লিড টুমরো” শিরোনামে দুই দিনব্যাপী সিএসই কার্নিভাল ২০২৬ শুক্রবার (২৬জুন) শুরু হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে কার্নিভালের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব থেকে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও রোবটিক্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নতুন জ্ঞান, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আজকের সিএসই কার্নিভাল সেই সম্ভাবনা বিকাশের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এবং মেধা, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। এখানকার অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক শিক্ষা ও নেটওয়ার্কিং ভবিষ্যতের গবেষণা, স্টার্টআপ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পোন্নয়নের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
ডুয়েট এমন একটি একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে।” উপাচার্য আরও বলেন, “আমরা এমন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের অংশীদার হবে। উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের শিক্ষার্থীদের সেই মেধা, সৃজনশীলতা ও সাহসিকতা আছে। আমি বিশ্বাস করি, তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।” উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর উপাচার্য ফোরডি চশমা ব্যবহার করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের ভ্রাম্যমান বিজ্ঞান প্রদর্শনী উপভোগ করেন। এছাড়াও তিনি হেড মাউন্টেড ডিভাইস ব্যবহার করে ভার্চুয়াল থ্রিডি এনভায়রনমেন্ট উপভোগ করেন।
এ সময় তিনি সিএসই বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রতিযোগী, শিক্ষক, গবেষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য বলেন, “সিএসই কার্নিভালের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবতর গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আগামী দিনে গবেষণা ও উদ্ভাবনে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে।”সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব, সিএসসি কার্নিভালের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এমরান হোসেন, অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. উম্মে ফাওজিয়া রহিমসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আগামীকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং বিডিরেন-এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ তাওরিত এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত থাকবেন।ইনোভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কার্নিভাল ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটি এবং হোয়াইটবোর্ড ইনিশিয়েটিভসের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের একশোর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার দুইশোর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। কার্নিভালের প্রথম দিনে আজ ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইইউপিসি), এআই হ্যাকাথন, আইসিটি অলিম্পিয়াড এবং প্রজেক্ট শোকেসিং কম্পিটিশন-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় তুলে ধরবে। আগামীকাল শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) কম্পিটিশনগুলোর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার পর নেটওয়ার্কিং সেশন এবং পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের পর্দা নামবে।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved