

আশিকুর রহমান সবুজ (শ্রীপুর) প্রতিনিধি
সংবাদ প্রকাশের পর সড়ক বিভাগ নামমাত্র বালি আর খোয়া দিয়ে খানাখন্দ ভরাট করলেও চব্বিশ ঘণ্টাও টেকেনি সেই সংস্কার। গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা কাঁচাবাজার এলাকার চিত্র আবারও আগের কঙ্কালসার অবস্থায় ফিরে গেছে। লোকদেখানো এই জোড়াতালির কাজ সামান্য বৃষ্টি আর যানবাহনের চাকার চাপেই ধসে পড়েছে।
আজ ২৩ মে (শনিবার) সরেজমিনে মাওনা চৌরাস্তা কাঁচাবাজারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দুদিন আগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ যে গর্তগুলো বালি ও ইটের খোয়া দিয়ে সাময়িক ভরাট করেছিল, সেগুলো এখন আরও বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালেই কাঁচাবাজারের সামনে ওই জলমগ্ন গর্তে চাকা পড়ে একটি কাঁচামাল বোঝাই ভ্যানগাড়ি উল্টে যায়। এতে ভ্যানে থাকা বস্তা বস্তা সবজি ও পণ্য কাদাপানিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা এসে ভ্যানটি উদ্ধার করেন। শুধু এই ভ্যানই নয়, বড় বড় গর্তে চাকা দেবে গিয়ে এখানে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালকদের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই তড়িঘড়ি ও নিম্নমানের সংস্কার কাজের কোনো স্থায়িত্ব নেই। নিছক দায়সারাভাবে শুধু গর্তগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছিল, যা প্রথম বৃষ্টিতেই ভেসে গেছে।
মাওনা চৌরাস্তার এক অটোরিকশা চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ঐদিন দেখলাম বালি আর ইটের টুকরা দিয়া গর্ত বুজাইলো। ভাবলাম বাঁচলাম। আজকে আইসা দেখি আগের থাইকাও খারাপ অবস্থা। চাকা পিছলায়া যায়, গাড়ি উল্টানোর দশা হয়।"
সামনে পবিত্র কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এই ব্যস্ততম মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামবে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে এই জোড়াতালির সংস্কার বন্ধ করে কার্পেটিং ও পিচ ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ী ও টেকসই মেরামত করা হোক। তা না হলে এবারের ঈদযাত্রায় মাওনা চৌরাস্তা অবর্ণনীয় ভোগান্তি, যানজট ও দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved