

মাহমুদুল হাসান চন্দন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে গত দুই মাসে প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। নদীর পানি কমে যাওয়ার পরও ভাঙন অব্যাহত থাকায় নতুন করে ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি, মাঝেরপাড়া, রায়টা ও লালনগরসহ আশপাশের এলাকায় ভাঙনের কারণে কৃষিজমি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব এলাকার অনেক কৃষক তাঁদের আবাদি জমি হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, গত দুই মাসে নদীভাঙনে প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া গত এক বছরে বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এ অঞ্চলে পান চাষ ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ স্থানীয় কৃষকদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে জমি হারিয়ে অনেক পরিবার জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
কুচিয়ামোড়া এলাকার পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম হোসেন বলেন, নদীভাঙনে প্রতিদিনই জমি হারাচ্ছেন কৃষকেরা। তাঁর অভিযোগ, ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আরও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মার ভাঙনে শুধু ফসলি জমিই নয়, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের জীবিকা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁদের মতে, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ মাহমুদা সুলতানা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দোলা বলেন, ভেড়ামারার কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, পদ্মার ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নদীতীর সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে কৃষিজমির পাশাপাশি বসতভিটা ও স্থানীয় অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, যাতে পদ্মার অব্যাহত ভাঙন থেকে কৃষিজমি ও জনবসতি রক্ষা করা সম্ভব হয়।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved