

প্রতিবেদক মোঃ রাকিব হোসেন সৌদি আরব
সৌদি আরবজুড়ে রেসিডেন্সি বা ইকামা, শ্রম আইন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। নিয়মিত ময়দানি তল্লাশি ও নজরদারির মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত ও আটক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার, অবৈধভাবে অবস্থান এবং আইনবহির্ভূতভাবে শ্রমে নিয়োজিত হওয়ার মতো বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানের উদ্দেশ্য হলো দেশটির নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা এবং রেসিডেন্সি, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিবিধান কার্যকর করা। এক সপ্তাহেই ২২ হাজারের বেশি আইন লঙ্ঘন
সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA) প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী যৌথ অভিযানে মোট ২২ হাজার ৯৪ জনকে রেসিডেন্সি, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়।এর মধ্যে ১৩ হাজার ৭৫০টি রেসিডেন্সি আইন, ৪ হাজার ৭২০টি সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৬২৪টি শ্রম আইনসংক্রান্ত লঙ্ঘন ছিল। একই অভিযানে সৌদিতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৮৬৭ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে সৌদি আরব থেকে বের হওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও ২৯ জনকে আটক করা হয়।
অবৈধদের পরিবহন ও আশ্রয় দিলেও বিপদ শুধু আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধেই নয়, তাদের পরিবহন, আশ্রয়, নিয়োগ, গোপন রাখা কিংবা যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের সৌদিতে প্রবেশে সহায়তা করা, দেশের ভেতরে পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া বা কোনো ধরনের সহায়তা করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রয়েছে। এসব অপরাধকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর চলছে আইনগত প্রক্রিয়া।
আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিজ নিজ দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্রমণ নথি সংগ্রহ, ভ্রমণের ব্যবস্থা এবং পরবর্তী সময়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ১৩–১৯ নভেম্বরের ওই অভিযানের হিসাব অনুযায়ী, ৩০ হাজার ৫৫ জন প্রবাসী তখন নিয়ম প্রয়োগের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ৫৩৮ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৮৬ জন নারী। একই সময়ে ২১ হাজার ৮৫৬ জনকে ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়, ৪ হাজার ৫৫৫ জনের ভ্রমণ বুকিং সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছিল এবং ১৪ হাজার ২০৬ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এক লাখের বেশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
আইন প্রয়োগের ব্যাপকতার আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় সৌদি জেনারেল ডিরেক্টরেট অব পাসপোর্টসের (জাওয়াজাত) তথ্যে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আঞ্চলিক কমিটিগুলো রেসিডেন্সি, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪টি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জারি করে। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে কারাদণ্ড, জরিমানা এবং বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা
সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের বৈধ ইকামা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ঠিক রাখা এবং অনুমোদিত নিয়মের বাইরে কাজ বা অবস্থান না করার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে অন্য কারও অবৈধ অবস্থান বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া, তাদের লুকিয়ে রাখা, পরিবহন করা কিংবা বেআইনিভাবে কাজে নিয়োগ দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকতে হবে। কারণ এসব ক্ষেত্রে শুধু মূল আইন লঙ্ঘনকারী নয়, সহায়তাকারীর বিরুদ্ধেও গুরুতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে।
কোথায় অভিযোগ করবেন
সৌদি কর্তৃপক্ষ আইন লঙ্ঘনের তথ্য জানাতে জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে ৯১১ এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে অভিযোগ জানানো যায়।সৌদি কর্তৃপক্ষের বার্তা স্পষ্ট—দেশটিতে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করা প্রবাসীদের জন্য আইন মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির কারণে ইকামা, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতি অব্যাহত রয়েছে।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved