
গাইবান্ধা প্রতিনিধি মোঃ শিমুল মিয়া
তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তায় গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে এই বাহিনীর নারী সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানামুখী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নে নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ শনাক্ত এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে এক বিশেষ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১১নং গিদারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (NILG), ঢাকা এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি বাস্তবায়ন করছে। মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চিত্র তুলে এনে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালনার জন্য জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। এতে নেতৃত্ব দেন NILG-এর যুগ্মপরিচালক (উপসচিব) প্রশাসন ও সমন্বয় জনাব এম এম ইমরুল কায়েস। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকাশনা কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ আবদুল জলিল মল্লিক এবং সদর উপজেলা উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রেজওয়ানুর রহমান।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন গিদারী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ ইফতেখার আলম এবং হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ মহিবুল্লা ভাসানী। এছাড়াও পারুল বেগম, মজিতা বেগম ও কাকুলী বেগমসহ পরিষদের সকল সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
তথ্য সংগ্রহ সেশনে ইউনিয়নের নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাদের প্রাত্যহিক কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্যে প্রধানত চারটি বড় চ্যালেঞ্জ পরিলক্ষিত হয়:-১. সামাজিক প্রতিবন্ধকতা: গ্রামীণ সমাজে নারীদের পুলিশের ভূমিকায় কাজ করাকে এখনও অনেকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেন না, যা তাদের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২. নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি: রাতে ডিউটি বা অপরাধ দমনে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অভাববোধ।
৩. প্রশিক্ষণের অভাব: আধুনিক অপরাধ দমন এবং দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাদার প্রশিক্ষণের অপ্রতুলতা।
৪. আর্থিক সীমাবদ্ধতা: বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত সম্মানী অত্যন্ত নগণ্য, যা দিয়ে পরিবার চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই তাদের অবহেলিত রেখে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তারা বেশ কিছু দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন: নারী সদস্যদের সম্মানী সম্মানজনক পর্যায়ে বৃদ্ধি করা।বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো।কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত ও রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।সামাজিকভাবে তাদের কাজের স্বীকৃতি ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো।
যুগ্মপরিচালক জনাব এম এম ইমরুল কায়েস তার বক্তব্যে বলেন, "মাঠ পর্যায়ের এই বাস্তব উপাত্তগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সরকারকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেব, যা ভবিষ্যতে নারী গ্রাম পুলিশদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।"
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ইউনিয়নের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, NILG-এর এই গবেষণার মাধ্যমে নারী গ্রাম পুলিশদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসবে এবং তারা আরও সাহসের সাথে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারবেন।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved