
মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
নদীতে বস্তাবন্দি লাশ, বছর ঘুরতেই পিবিআইয়ের হাতে ধরা মূল আসামি; আদালতে স্বীকারোক্তি।
যশোরের অভয়নগরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রায় এক বছর আগে খুলনার লবণচরা এলাকায় নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি লাশটি যে শফিকুল ইসলামের, তা শনাক্তের পর দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এ ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আটককৃত আসামি দ্বীন ইসলাম অভয়নগর উপজেলার ভূগিলহাট গ্রামের আব্দুর রহিম শেখের ছেলে। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট খুলনার লবণচরা থানার পুটিমারি এলাকায় কাজীবাছা নদীর তীরে একটি বস্তাবন্দি লাশ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। রূপসা নৌ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পচনধরা অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমদিকে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলেও পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি যশোরের অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামের মৃত আঃ মান্নানের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৫৪)।
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শফিকুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি ধামাচাপা থাকে। এ ঘটনায় যশোরের অভয়নগরের দ্বীন ইসলাম শেখসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ বরিশাল মহানগরের এয়ারপোর্ট থানা এলাকা থেকে দ্বীন ইসলাম শেখকে গ্রেফতার করে পিবিআইয়ের একটি দল। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডে আরও ব্যক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved