
অনলাইন ডেস্ক
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত তিন খুনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
গত কয়েকদিন আগে নিয়ামতপুর উপজেলার একটি নিভৃত পল্লীতে গভীর রাতে নিজ বাড়িতে এক দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সকালে প্রতিবেশীরা ঘরের মেঝেতে রক্ত দেখে পুলিশে খবর দিলে এই নৃশংস ঘটনার কথা জানাজানি হয়। এই ঘটনায় পুরো জেলা জুড়ে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জেলা পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। বিশেষ তদারকিতে নামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID) এবং পিবিআই (PBI)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো— ওই এলাকারই চিহ্নিত অপরাধী এবং পূর্ব পরিচিত কিছু যুবক।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, মূলত চুরির উদ্দেশ্যেই তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। তারা জানত যে বাড়িতে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার সংরক্ষিত আছে। বাড়িতে প্রবেশের পর পরিবারের সদস্যরা জেগে গেলে এবং তাদের চিনে ফেললে খুনিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
ধৃত আসামিদের ভাষ্যমতে, পরিবারের কর্তাব্যক্তি তাদের চিনে ফেলায় এবং চিৎকার করার চেষ্টা করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে তাকে আঘাত করে নিস্তেজ করা হয় এবং পরে একে একে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। শুধুমাত্র নিজেদের পরিচয় আড়াল করতেই তারা এই চরম নৃশংসতার পথ বেছে নেয়।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র এবং বাড়ি থেকে লুট করা কিছু মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত জামাকাপড় থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, যা আদালতে অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী সাক্ষ্য হিসেবে কাজ করবে।
এই সফল অভিযানের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধীরা অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির হলেও পুলিশের পেশাদারিত্বের কাছে তারা হার মেনেছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, "আমরা শুরু থেকেই এই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছিলাম। নিরীহ একটি পরিবারকে এভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুততম সময়ে খুনিদের আইনের
এদিকে খুনিরা গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও নিহতদের স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে। স্থানীয় এলাকাবাসী গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
নিয়ামতপুরের এই ঘটনাটি সমাজিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকার পাশাপাশি জনসচেতনতার গুরুত্বকেও আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved