

প্রতিবেদক মোঃ রাকিব হোসেন
আলোর দিশারী ছাত্র ও যুব সংঘের উদ্যোগে অভিযান; ঘটনাস্থল থেকে আরিফ নামে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার নিজমাওনা বিএনপি বাজারে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আলোর দিশারী ছাত্র ও যুব সংঘের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে আরিফ নামে এক ব্যক্তিকে মাদক ক্রেতা হিসেবে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নিজমাওনা বিএনপি বাজার এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় বাজারের একটি দোকানের সামনে আরিফ নামে এক ব্যক্তিকে কথিত মাদক ক্রেতা হিসেবে আটক করা হয়।একই ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরেক আরিফকে মাদক বিক্রেতা বা ডিলার হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ব্যক্তির দোকান থেকেই মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে।
দোকান বন্ধ করার কথা বলে সরে যাওয়ার অভিযোগ
ঘটনার সময় কথিত মাদক বিক্রেতা আরিফকে তার দোকান বন্ধ করে আসতে বলা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এরপর তিনি দোকান বন্ধ করতে যান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের পরিচয় বা নাম প্রকাশ করা হয়নি, ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে সরে যান বা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় একজনকে আটক করা হলেও কথিত মাদক বিক্রেতা কীভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ পেলেন—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।তবে এ বিষয়ে কারা তাকে দোকান বন্ধ করার সুযোগ দিয়েছিলেন, তারা কেন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং কথিত ডিলারকে আটকের পরিবর্তে কেন তাকে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশের হেফাজতে ক্রেতা আরিফ অভিযানের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে আটক করা আরিফকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে শ্রীপুর থানার মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহীন ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যান বলে জানা গেছে।
পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর তার কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে কি না, তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার বা আটক দেখানো হয়েছে কি না এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এলাকায় মাদক কেনাবেচা বন্ধে স্থানীয় যুবকদের এমন উদ্যোগ ইতিবাচক। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে যদি মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক নির্মূলে শুধু ক্রেতাকে আটক করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।তাদের আরও দাবি, কোনো ব্যক্তি মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত ঘটনা
স্থানীয় সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটলেও, কথিত মাদক বিক্রেতা আরিফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো আলামত বা মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে কি না, ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং পুলিশের তদন্ত—এসবের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে।
এদিকে স্থানীয় আলোর দিশারী ছাত্র ও যুব সংঘের পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর থানার মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহীন অথবা সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে জানা যাবে—আটক আরিফের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তার কাছ থেকে কী উদ্ধার হয়েছে এবং কথিত মাদক বিক্রেতার বিষয়ে পুলিশ কোনো তদন্ত বা অভিযান পরিচালনা করেছে কি না।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অভিযুক্ত কাউকে আইনের আওতায় নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত বিষয়।
নিজমাওনা বিএনপি বাজারের এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে যে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে তার সঠিক উত্তর বেরিয়ে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved