
দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ মরণোত্তর গ্রহণ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র রক্ষা এবং নারী শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বেগম খালেদা জিয়াকে এই মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বিকেল ৪টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে যখন বেগম খালেদা জিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়, তখন মিলনায়তনজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান যখন তাঁর ‘দাদু’র পক্ষে স্বর্ণপদক ও সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন, তখন উপস্থিত অতিথিরা করতালি দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাঁর ছোট বোন সেলিমা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। বেগম খালেদা জিয়াকে এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য মনোনীত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, ৫ লাখ টাকার চেক, পদকের একটি রেপ্লিকা এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়েছে।
এ বছর বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও আরও ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (সমাজসেবা), ড. আশরাফ সিদ্দিকী (সাহিত্য), বশীর আহমেদ (সংস্কৃতি), কাজী ফজলুর রহমান (প্রশাসন) এবং মাহেরীন চৌধুরী (সমাজসেবা)।
জীবিত অবস্থায় পুরস্কার গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত, ক্রীড়ায় টেবিল টেনিস কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু এবং পরিবেশ সংরক্ষণে মুকিত মজুমদার বাবু।
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পিকেএসএফ, এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
পুরস্কার বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। দেশের নারী শিক্ষার জাগরণে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। এই সম্মাননা তাঁর দীর্ঘ ত্যাগের প্রতি জাতির সামান্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মাত্র।"
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। পুরস্কার প্রদান শেষে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনা ফুটিয়ে তোলা হয়।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved