
আঃ হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
“উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”—এই সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে মধুপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই মেলার জমকালো উদ্বোধন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের পৃষ্ঠপোষকতায় মধুপুর উপজেলা প্রশাসন এই মেলার আয়োজন করেছে।
শনিবার সকালে ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জুবায়ের হোসেন। উদ্বোধন শেষে তিনি মেলায় অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উৎসাহ প্রদান করেন এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অপরিহার্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।নঈম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মধুপুর। জাকির হোসেন সরকার, সভাপতি, উপজেলা বিএনপি।নাছির উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি।ফজলুল হক, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), মধুপুর থানা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হোসাইন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা, আইসিটি কর্মকর্তা আবরারুল হক শিমুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ সামাদ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল মোতালিবসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকগণও উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মহি উদ্দিন আহমেদ।
উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই মেলায় অংশ নিয়েছে। স্টলগুলোতে শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা উদ্ভাবনী প্রজেক্ট দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেয়।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: অনেক শিক্ষার্থী সোলার এনার্জি, স্মার্ট সিটি মডেল এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি প্রদর্শন করেছে। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কথা মাথায় রেখে ড্রোন দিয়ে কীটনাশক ছিটানো ও স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থার মডেল ছিল চোখে পড়ার মতো। বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সহজলভ্য সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি রোবট প্রদর্শন করে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "আজকের এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীরাই আগামী দিনের উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের এই উদ্ভাবনী চিন্তাগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।"
মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের এই আয়োজনে সকাল থেকেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বিজ্ঞানমনস্ক তরুণ প্রজন্মের কাছে এই মেলা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা একে অপরের প্রজেক্ট দেখে নতুন নতুন জ্ঞান আহরণ করছে। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের বিজ্ঞানের প্রতি এই আগ্রহ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনব্যাপী এই মেলার সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ প্রজেক্ট ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে প্রতি বছরই এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
মধুপুরের এই বিজ্ঞান মেলা কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ের মেধা অন্বেষণের এক অনন্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বিজ্ঞান শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই—মেলার প্রতিটি কোণ যেন এই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছিল।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved