
নজমুল হক, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ‘নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষি গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত প্রজনন ও সারা বছর টেকসই ফসল উৎপাদনে উদ্ভাবনী স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে কৃষি খাতে উন্নত অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের এক যুগান্তকারী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। এর মূল লক্ষ্য হলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষিকে সমন্বয় করে ফসলের ব্রিডিং বা প্রজনন চক্রকে ত্বরান্বিত করা এবং বছরব্যাপী টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা।
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এটি হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। আয়োজকরা জানান, প্রথাগত কৃষি পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক অটোমেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ফসলের জীবনচক্র কমিয়ে আনা এবং অমৌসুমি ফসল উৎপাদনের ওপর এখানে গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনকস গ্রুপের পরিচালনা ব্যবস্থাপক জনাব নাসিক আক্কাস।
কর্মশালায় দেশের স্বনামধন্য কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান—বারি (BARI), ব্রি (BRRI), বিনা (BINA), লাল তীর, সুপ্রীম সীড, এসিআই সীড, ইস্ট-ওয়েস্ট সীড এবং প্যারামাউন্ট অ্যাগ্রোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সহযোগী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম। এরপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান। তিনি তাঁর প্রবন্ধে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও আলোর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করে ফসলের প্রজনন প্রক্রিয়াকে কয়েকগুণ ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর ভাইস-চ্যান্সেলরের সঞ্চালনায় শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্পের সম্ভাবনা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং গাকৃবির গবেষণাকে কীভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা যায়, তা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি গবেষণা বর্তমানে কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি সময়ের অপরিহার্য বাস্তবতা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এটি কৃষিকে আরও টেকসই, দক্ষ ও উৎপাদনশীল করবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, গাকৃবির এই গবেষণা কার্যক্রম জাতীয় উন্নয়ন ও বৈশ্বিক কৃষি অগ্রযাত্রায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
কর্মশালাটি গবেষক এবং ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। অংশগ্রহনকারীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গবেষণা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের কৃষিকে আধুনিকায়নের পথে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। সবশেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
2026 © Amar Dorpon. All Rights Reserved