শহিদুল ইসলাম শাওন, শেরপুর ( বগুড়া)
বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। এলাকার অলিগলি থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা – সবখানেই এখন প্রার্থীদের নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে বারবার নির্বাচিত সাবেক জনপ্রিয় কাউন্সিলর মোঃ শাহাবুল করিমের নাম।
ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এলাকার অবহেলিত, নির্যাতিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন শাহাবুল করিম। কঠিন সময়েও তিনি মানুষের পাশে থেকেছেন সাহস ও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে। যদিও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। ঘরছাড়া থাকতে হয়েছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। চাপের মুখে থেকেও তিনি তার সামাজিক কার্যক্রম থামিয়ে রাখেননি।২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জনসেবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন শাহাবুল করিম।
ছাত্রনেতা থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে তিনি যুবনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন এবং শেরপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহসীন আলী মাষ্টারের সন্তান হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন মানবিক নেতা হিসেবে। দীর্ঘ দুঃশাসনের রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার নির্যাতন, নিপীড়ন ও কারাবরণের শিকার হন। তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা দায়ের করা হলেও স্থানীয়দের দাবি – এসব ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কখনও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে সরে আসেননি তিনি।প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে একাধিকবার তার বাসভবনে হামলা, মামলা ও পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তবুও থেমে থাকেনি তার মানবিক কার্যক্রম। সম্প্রতি পবিত্র মাহে রমজান মাসে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রায় ৩৫০টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ইফতার সামগ্রী বিতরণ ও ইফতার মাহফিল আয়োজনের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন তিনি। এলাকায় খেলাধুলার উন্নয়ন, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
শেরপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শাহাবুল করিম মানবিক উদ্যোগ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় একটি পরিচিত ও সম্মানিত নাম। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি একজন জনবান্ধব নেতা হিসেবে সুপরিচিত।নির্বাচনকে সামনে রেখে শাহাবুল করিম বলেন, “আমি এই ওয়ার্ডের সন্তান। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবার লক্ষ্য নিয়েই আমি পূর্বের ন্যায় আগামীতেও কাজ করে যাব। নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব। আমি সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম এবং আগামীতেও থাকব।
”তিনি আরও বলেন, “গরিব মানুষের হক মেরে খাওয়া, কারও প্রতি জুলুম বা অন্যায় নির্যাতন, কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তি দ্বারা নিরীহ মানুষ বা প্রবাসীর বাসাবাড়ি দখল – এসবের বিরুদ্ধে আমি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জুয়া, মাদকের সিন্ডিকেট এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব, ইনশাআল্লাহ। ওয়ার্ডবাসী যদি আমাকে বিশ্বাস করে আবারও সেবা করার সুযোগ দেন, আমি কথা দিচ্ছি – আমার কথা ও কাজের মধ্যে মিল না থাকলে আমি আর কোনোদিন আপনাদের কারও দরজায় ভোট চাইতে যাব না।”তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি চাই, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ৬ নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে।
”এলাকাবাসীর মতে, দলমত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।সবমিলিয়ে, আসন্ন শেরপুর পৌর নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ড ঘিরে যে আগ্রহ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শাহাবুল করিম। দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই তাকে এগিয়ে রেখেছে আলোচনার শীর্ষে।এখন দেখার বিষয়, এই জনপ্রিয়তা ও আস্থার প্রতিফলন ব্যালটেও কতটা দৃশ্যমান হয়। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা – যোগ্যতা, সততা ও জনসেবার ধারাবাহিকতায় এবারও এগিয়ে থাকবেন তাদের প্রিয় এই মুখ এবং ৬ নং ওয়ার্ড পাবে একটি আরও উন্নত, আধুনিক ও জনবান্ধব নেতৃত্ব।এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় ৬ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। সচেতন মহলের মতে, সৎ, সাহসী ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে ওয়ার্ডবাসীর প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তরুণ সমাজের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও মনে করছেন তারা।

Leave a Reply