আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধ ও তার পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত হামলায় এক গৃহবধূসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার সময় স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমল গ্রামে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরমল গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মো. তমিজ উদ্দিনের (৬৫) সাথে তার প্রতিবেশী মো. মোস্তফা ও তার ছেলেদের দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা-মোকদ্দমাও চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষ মোস্তফা ও তার ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরেই তমিজ উদ্দিনের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছিল।
গত বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল ২০২৬) সকাল বেলা তমিজ উদ্দিন তার বসতভিটার সীমানা সুরক্ষিত করার জন্য চারা গাছের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অভিযুক্ত মোস্তফা ও তার ছেলেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো দা নিয়ে তমিজ উদ্দিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
বৃদ্ধ তমিজ উদ্দিনের ওপর হামলা হতে দেখে তার স্ত্রী বানেছা খাতুন (৫০) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। এসময় হামলাকারীরা আরও হিংস্র হয়ে ওঠে এবং বানেছা খাতুনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। এমনকি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টাও করা হয়।
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হামলাকারীরা বানেছা খাতুনের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইনটি জোড়পূর্বক ছিনিয়ে নেয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, ছিনিয়ে নেওয়া ওই স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। হামলার সময় তমিজ উদ্দিন ও তার স্ত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতি এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
হামলার পর স্থানীয়রা আহত বানেছা খাতুনকে উদ্ধার করে দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত থাকায় তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। তমিজ উদ্দিন জানান, “আমরা নিজ জমিতে বেড়া দিতে গিয়েও হামলার শিকার হচ্ছি। ওরা আমাদের জানমালের ক্ষতি করতে চায়। এখন আমরা ঘরে থাকতেও ভয় পাচ্ছি।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. তমিজ উদ্দিন বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় মো. মোস্তফাসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার সংবাদমাধ্যমকে জানান, “জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি হামলার লিখিত অভিযোগ আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্তের জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বরমল গ্রামের সাধারণ মানুষ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, তুচ্ছ জমিজমা নিয়ে এমন হামলা ও নারীর ওপর নির্যাতনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি পুলিশের কাছে জীবনের নিরাপত্তা এবং ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply