শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
শুভেচ্ছা বার্তায় শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া বলেন, পহেলা বৈশাখ মানেই শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার দিন। পহেলা বৈশাখ মানে আমাদের ফেলে আসা বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট আর গ্লানি মোছে ফেলে নতুন সূর্যে আলোকিত হওয়া। এটি বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈশাখ মানেই শৈশবের সেই রঙিন স্মৃতি— পান্তা-ইলিশের স্বাদ, মা-বোনেদের নতুন শাড়ির খসখসে শব্দ আর ছেলেদের নতুন পাঞ্জাবিতে সেজে দল বেঁধে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বৈশাখী মেলায় ঘুরে বেড়ানো। নাগরদোলায় চড়া, মাটির খেলনা কেনা আর খৈ-বাতাসার গন্ধে মেতে ওঠা আনন্দ উল্লাসের সেই দিনগুলোই আমাদের প্রকৃত বাঙালিয়ানা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পহেলা বৈশাখ ও বাংলা বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় এবং জমজমাট আয়োজনটি ঘটে রাজধানী ঢাকায়। নববর্ষের প্রথম প্রভাতে রমনা উদ্যান ও এর চারপাশের এলাকায় যখন জনস্রোত সৃষ্টি হয়, তখন সেটি আর কেবল একটি জমায়েত থাকে না, বরং রূপান্তরিত হয় এক বিশাল জাতীয় বন্ধনে। মঙ্গল শোভাযাত্রার রঙিন কারুকাজ, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে আমরা এক ঐক্যবদ্ধ জাতি। ঢাকার সেই আবহ আজ পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে মানুষ আজ এক হয়ে উৎসবে মেতে ওঠে, যা আমাদের জাতীয় সংহতিকে আরও শক্তিশালী করে।
সাংবাদিক শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া তাঁর বার্তায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, পহেলা বৈশাখ কোনো একক ধর্ম বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর উৎসব নয়। এটি ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের এক অবারিত মিলন উৎসব। এখানে নেই কোনো বিভেদ, নেই কোনো সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান— আমরা সবাই এই দিনে এক কাতারে এসে দাঁড়াই। পহেলা বৈশাখ পালন বাঙালি জাতির ঐক্য এবং দীর্ঘদিনের লালিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপরে নাই।
আমাদের সমাজে বর্তমানে যে নানামুখী অস্থিরতা রয়েছে, তা দূর করতে পহেলা বৈশাখের গুরুত্ব অপরিসীম। শ্রী মিশুক চন্দ্র বলেন, “এই বিশেষ দিনে আমরা শপথ নিই যেন অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারি। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় পহেলা বৈশাখ আমাদের নতুন করে প্রেরণা জোগায়।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন বছরের সূর্যোদয় যেন আমাদের প্রত্যেকের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি এবং অপার শান্তি বয়ে আনে। হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গড়ার জন্য নববর্ষের এই শক্তিই আমাদের চালিকাশক্তি
শুভেচ্ছা বার্তার শেষ অংশে তিনি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, উৎসব কেবল নিজের আনন্দের জন্য নয়, বরং আনন্দকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সার্থকতা। তিনি সমাজের সকল সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন আমরা সবাই পহেলা বৈশাখের আনন্দ ও উৎসব একসাথে উদযাপন করি। তবে আমাদের এই খুশির দিনে যেন আমাদের প্রতিবেশী অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলো বাদ না পড়ে। আসুন তাদের প্রতি সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করি এবং অভাবী শিশুদের মুখেও হাসির ঝিলিক ফুটিয়ে তুলি।”
পটুয়াখালীর মাটি ও মানুষের এই প্রতিনিধি আবারও সকলকে ‘শুভ নববর্ষ’ জানিয়ে দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করেছেন। বাংলা নববর্ষ হোক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার নতুন সিঁড়ি।

Leave a Reply