মানবতার কল্যানে অনন্য দৃষ্টান্ত :কয়রায় দুস্থ মানুষের মাঝে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঔষধ বিতরণ

মানবতার কল্যানে অনন্য দৃষ্টান্ত :কয়রায় দুস্থ মানুষের মাঝে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঔষধ বিতরণ

কয়রা খুলনা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত অসহায় ও দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আয়োজিত হলো দিনব্যাপী এক বিশাল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপজেলার জায়গীর মহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গণে এই মানবিক উদ্যোগটি সম্পন্ন হয়। পিস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শামছুর রহমান ফাউন্ডেশন, সিরাতুল হুদা ট্রাস্ট এবং দক্ষিণ খুলনা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ও আইসিডির (ICD) বাস্তবায়নে এই ক্যাম্পটি পরিচালিত হয়।

​সকাল থেকেই কয়রার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ প্রাঙ্গণ। লবনাক্ততা ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। সেই অভাব পূরণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত টিম দিনভর প্রায় এক হাজারেরও বেশি রোগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কেবল ব্যবস্থাপত্র দেওয়াই নয়, বরং চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় উন্নত মানের বিনামূল্যে ওষুধ

​মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহ- মোঃ ইবাদত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাতুল হুদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) মেসবাহুল ইসলাম। তিনি বলেন:

​”মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কষ্ট লাঘব করা পরম ইবাদতের অংশ। খুলনার এই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ভৌগোলিক কারণেই উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস যদি সামান্যতম উপকারে আসে, তবেই আমাদের সার্থকতা।”

​অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিরাতুল হুদা ট্রাস্টের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন, আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা আশিকুজ্জামান (আশিক) এবং কয়রা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান (সোহাগ)। এছাড়াও পিস ফাউন্ডেশনের সদস্যবৃন্দ ও আইসিডির উপদেষ্টা মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

​চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ আব্দুল ছাত্তার তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “মুই ম্যালা দিন ধইরে গায়ের ব্যাথা আর হাঁপানিতে (শ্বাসকষ্ট) ভুগতিছি। শুনিছি শহর থেইকে বড় ডাক্তার আইছে, তাই চইলে আসলাম। ডাক্তার দেহানোর পর বিনে পয়সায় ওষুধও দিছে।” একইভাবে কয়রা সদর থেকে আসা কোহিনুর খাতুন জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি। তাদের মতো শত শত মানুষের চোখে-মুখে ছিল পরম তৃপ্তির ছাপ।

​আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে রাসেল আহমেদ, মনিরুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা জানান, প্রান্তিক জনপদের জীবনমান উন্নয়নে তাদের এই মানবিক প্রচেষ্টা কেবল একবারের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তারা মনে করেন, প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠন সম্ভব।

ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পটি কেবল একটি সেবামূলক কর্মসূচি নয়, বরং এটি মানবতার কল্যাণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এমন সমন্বিত উদ্যোগ সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে, যা উপকূলীয় সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। কয়রার দুর্গম জনপদে যখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পৌঁছায়, তখন সেটি কেবল চিকিৎসা থাকে না, হয়ে ওঠে মানবতার সেতুবন্ধন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.