নতুন বছরে সমৃদ্ধি ও ন্যায়ের শাসনের প্রত্যাশা: দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান মন্ডল

নতুন বছরে সমৃদ্ধি ও ন্যায়ের শাসনের প্রত্যাশা: দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান মন্ডল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের ধারক ও জাতীয় উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) উপলক্ষে দেশবাসী, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বৈশাখী অভিনন্দন জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান মন্ডল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ।

এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি নতুন বছরে প্রতিটি মানুষের জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সাথে তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুসংহত করার বলিষ্ঠ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তন নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় জীবনে নতুন সংকল্প গ্রহণ এবং সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন।”

নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোষ্ঠীর নয়, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের স্পন্দন। মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে শুরু করে বৈশাখী মেলা—সবই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জীবনের প্রতিচ্ছবি। পুরোনো বছরের সব গ্লানি, শোষণ, বঞ্চনা ও ব্যর্থতা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে নতুন সোপানে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় এই শুভ দিনটি। আমি মন থেকে প্রার্থনা করি, নতুন এই বছরটি প্রতিটি সাধারণ মানুষের জীবনে অবারিত আনন্দ ও সুস্বাস্থ্য বয়ে আনবে এবং আমাদের মাঝে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।”

দেশের উচ্চ আদালতের একজন প্রথম সারির আইনপেশাজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান মন্ডল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ,বর্তমান বিচারিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গভীর আলোকপাত করেন। তিনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে দেশের বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান, তা কাটিয়ে উঠতে জাতীয় ঐক্য ও বিচারিক স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই। একজন নিবেদিতপ্রাণ আইনজীবী হিসেবে তিনি আজীবন বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালতে আইনি লড়াই এবং আদালতের বাইরে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় রাজপথে আপসহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, আইনের চোখে সমতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত গণতন্ত্র কখনোই টেকসই হবে না।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এই প্রভাবশালী নীতি নির্ধারক তার বার্তায় আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন:”আমরা এমন একটি সুশৃঙ্খল বিচারব্যবস্থা ও কল্যাণমুখী সমাজ ব্যবস্থা দেখতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের—তা সে যে স্তরেরই হোক না কেন—সমান অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত ১৯ দফা কর্মসূচি ও তার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন আমাদের সেই দিকনির্দেশনাই প্রদান করে। নতুন বছরে আমাদের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত সকল প্রকার অবিচার, দুর্নীতি, পেশিশক্তি ও শোষণের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানো এবং একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।”

সুপ্রিম কোর্ট বার এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিনের সহকর্মী আইনজীবী এবং অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রকাশ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম এবং ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে আইনজীবী সমাজ সবসময়ই ঢাল হিসেবে কাজ করেছে এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী দিনেও যেকোনো রাজনৈতিক ও আইনি সংকটে আইনজীবীরা সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে রাজপথে ও আদালত কক্ষে ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকবে। পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে বিচারপ্রার্থীদের সেবা করাই হোক আইনজীবীদের নতুন বছরের ব্রত।

ব্যক্তিগত জীবনে সমাজসেবায় নিবেদিত অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান মন্ডল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ-তার বক্তব্যে সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, উৎসব তখনই পূর্ণতা পায় যখন সমাজের অবহেলিত ও দুস্থ মানুষগুলো তাতে শামিল হতে পারে। তিনি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান যেন তারা নববর্ষের এই আনন্দলগ্নে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গৃহীত বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীর দিনগুলোতেও তিনি মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বার্তার শেষ অংশে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের পকেটে যখন শান্তি থাকবে এবং যখন তারা নির্ভয়ে তাদের নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারবে, তখনই নববর্ষের সার্থকতা ও আনন্দ প্রকৃতভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে। অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই নতুন বছরে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক অর্থনীতি গড়ে তোলা যা তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে।” তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের সকল স্তরের মানুষকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
উপসংহার ও প্রার্থনা

সকলের সার্বিক মঙ্গল, পারিবারিক সুখ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি বলেন, “নতুন বছর হোক উৎসবের, নতুন বছর হোক অন্ধকার ও জুলুমের হাত থেকে চিরমুক্তির এবং নতুন বছর হোক গণমানুষের চূড়ান্ত বিজয়ের। আমরা যেন সব হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের প্রিয় জন্মভূমি, আমাদের দেশ ও জাতির সহায় হোন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.