্ন্ম্নজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীপুর (গাজীপুর) পেশাদারিত্ব, সততা এবং অসামান্য কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে গাজীপুর জেলার ২০২৬ সালের মার্চ মাসের ‘শ্রেষ্ঠ এএসআই’ নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীপুর মডেল থানার এএসআই (নিঃ) মোঃ কামরুজ্জামান। জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তার হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অপরাধ দমন ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তাকে এই মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের নিয়মিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এএসআই কামরুজ্জামান শ্রীপুর থানা এলাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। বিশেষ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) তামিল করার ক্ষেত্রে তিনি অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছেন।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, কামরুজ্জামান কেবল তার দায়িত্ব পালনই করেননি, বরং সীমিত সম্পদের মধ্যে সাহসিকতার সাথে জটিল সব অপরাধের তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। তার এই সক্রিয় ভূমিকা গাজীপুর জেলা পুলিশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
শ্রীপুর মডেল থানার আওতাধীন শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকাগুলোতে মাদকের বিস্তার রোধে এএসআই কামরুজ্জামান নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে তার গৃহীত পদক্ষেপগুলো স্থানীয় পর্যায়ে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া, এলাকায় চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার এবং ছোটখাটো আইনি জটিলতা নিরসনে তার তাৎক্ষণিক তৎপরতা মানুষের মনে পুলিশের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কামরুজ্জামান সাধারণ মানুষের অভিযোগ অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। অনেক সময় গভীর রাতেও বিপদে পড়া মানুষের ডাকে সাড়া দিতে দেখা গেছে তাকে। এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, পুলিশ যে জনগণের বন্ধু—এই দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তিনি।
”পুলিশি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কামরুজ্জামান ভাইয়ের মতো অফিসারদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি একজন সৎ ও কর্মঠ মানুষ, যার কারণে আমাদের এলাকায় সাধারণ মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করে।
কামরুজ্জামানের এই অর্জনকে শ্রীপুর মডেল থানার সার্বিক কর্মদক্ষতার একটি সফল প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সহকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তার এই সাফল্য পুরো থানার পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়িয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে আরও জনবান্ধব কাজ করতে সবাইকে উৎসাহিত করবে।
সম্মাননা প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় এএসআই মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, “এই অর্জন আমার একার নয়, এটি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সহকর্মীদের সহযোগিতার ফল। এই সম্মাননা আমার দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি আজীবন নিষ্ঠার সাথে মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই এবং গাজীপুর জেলা পুলিশকে একটি অপরাধমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।”
একজন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্য যখন তার কাজের জন্য স্বীকৃত হন, তখন সেটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য থাকে না, বরং তা পুরো বাহিনীর সেবার মানোন্নয়নে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এএসআই কামরুজ্জামানের এই শ্রেষ্ঠত্ব শ্রীপুর তথা পুরো গাজীপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জেলা পুলিশের এই নিয়মিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সৎ ও দক্ষ অফিসারদের কাজের স্পৃহা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

Leave a Reply