শ্রীপুরের টেপিরবাড়িতে কারখানায় শ্রমিকদের গণ অসুস্থতা- তদন্তে উঠে এলো ‘গণ মানসিক অসুস্থতা’ (MPI)

শ্রীপুরের টেপিরবাড়িতে কারখানায় শ্রমিকদের গণ অসুস্থতা- তদন্তে উঠে এলো ‘গণ মানসিক অসুস্থতা’ (MPI)

আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর


‎গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকার ‘কালা এন্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় শ্রমিকদের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে কারখানায় কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা সংক্রমণজনিত সমস্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বরং অসুস্থতার কারণ হিসেবে ‘গণ মানসিক অসুস্থতা’ বা ‘মাস সাইকোলজিক্যাল ইলনেস’ (MPI)-কে দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি।

‎​গত ৭ ও ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে টেপিরবাড়িতে অবস্থিত ওই কারখানায় কর্মরত বেশ কয়েকজন শ্রমিক আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ শ্রমিকদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলে তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে যান।
‎​
‎​অসুস্থ শ্রমিকদের শারীরিক পরীক্ষায় উচ্চ তাপমাত্রা, খিঁচুনি বা চেতনা হারানোর মতো গুরুতর কোনো উপসর্গ বা সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।কারখানা পরিদর্শনকালে কোনো বিষাক্ত গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এবং সেখানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে।তবে কর্মস্থলে শব্দের মাত্রা সহনীয় পর্যায় থেকে কিছুটা বেশি বলে কমিটি লক্ষ্য করেছে।তদন্ত কমিটির মতে, কারখানার এক শ্রমিকের মৃত্যু, কাজের অতিরিক্ত চাপ, ব্যক্তিগত পারিবারিক সমস্যা, কাল্পনিক ভয় এবং ছুটির আকাঙ্ক্ষার মতো মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলোর সংমিশ্রণে শ্রমিকদের মধ্যে এই গণ মানসিক অসুস্থতার (MPI) সৃষ্টি হয়েছে।
‎​
‎ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির লক্ষ্যে কমিটি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট
‎​কারখানার মেডিকেল সেন্টারে ডাক্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
‎​অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থ সহকর্মীদের কাছ থেকে আলাদা করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
‎​উদ্বেগ কমাতে অ্যাম্বুলেন্স বা সাইরেনের অযৌক্তিক ও বাহুল্য ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
‎​সেফটি ও পিসি কমিটির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এবং মানসিক চাপ বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতন করতে নিয়মিত আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে।
‎​শ্রমিকদের মানসিক চাপ কমাতে কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ তৈরি এবং কর্মক্ষেত্রের শব্দের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‎​উল্লেখ্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মো: নাহিদ ভূঞার নেতৃত্বে গঠিত এই তদন্ত কমিটিতে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.