শ্রীপুরে বরমী ব্রিজের সংযোগ সড়কের জমির টাকা নিয়ে বিরোধ, মানববন্ধন

শ্রীপুরে বরমী ব্রিজের সংযোগ সড়কের জমির টাকা নিয়ে বিরোধ, মানববন্ধন

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী ব্রিজের সংযোগ সড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে বিরোধ, হয়রানি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরমী বাজারসংলগ্ন পাইটাল বাড়ি এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ২৪ পরিবারের শতাধিক নারী-পুরুষ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বরমী ধাত্রী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য এক একর ৩৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি দাগের ১২টি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং একটি দাগ খাস খতিয়ানভুক্ত। অধিগ্রহণের আওতায় থাকা প্রায় ৩০ পরিবারের মধ্যে ছয় পরিবার ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা পেলেও বাকি ২৪ পরিবার তা পায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের টাকা বন্ধ রাখতে স্থানীয় মোবারক হোসেন আদালতে মামলা করেছেন। তারা দাবি করেন, মামলা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে মোবারক তাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।

মানববন্ধনে সোহেল মিয়া, ফারুক মিয়া, মঞ্জুরুল ও লিটন মিয়াসহ ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত বুঝিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে মোবারক হোসেন ও হৃদয় বলেন, অধিগ্রহণ করা জমিতে তাদের কোনো স্থাপনা নেই। তবে ওই জমিতে তাদের সম্পত্তি রয়েছে, বর্তমানে তা তাদের দখলে নেই। মালিকানা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কাগজপত্র ও আইন অনুযায়ী নির্ধারণ হওয়া উচিত। তারা চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগও অস্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় ২০২১ সালে প্রায় ১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ধাত্রী নদীর ওপর ৯৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুর নির্মাণ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্মাণের প্রায় তিন বছর পরও সেতুটি পুরোপুরি চালু করা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.