গাজীপুর থেকে নয় পিচ্চি রাজা পালিয়েছে তাতিবাজার থেকে বোনসহ আটক ৩

গাজীপুর থেকে নয় পিচ্চি রাজা পালিয়েছে তাতিবাজার থেকে বোনসহ আটক ৩

গাজীপুর প্রতিনিধি


গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা (৩৪) প্রিজন ভ্যান থেকে পালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুরুতে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থেকে পিচ্চি রাজা পালিয়েছেন বলে যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তদন্তে তার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি। ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, পিচ্চি রাজা মূলত ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পালিয়ে যান। পরে বাইমাইলে পালানোর ঘটনা সাজানো হয় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
সোমবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। তিনি বলেন, ঘটনার শুরুতে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তদন্তে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। সাক্ষ্য, তথ্য-উপাত্ত ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।


পুলিশ কমিশনার জানান, পিচ্চি রাজার পলায়নের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামি পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে স্কট করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেওয়ার পথে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল এলাকায় পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান—এমন অভিযোগে কোনাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলা করা হয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার গাজীপুর মহানগর ডিবির দক্ষিণ বিভাগকে দেওয়া হয়।মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবি দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলাম। তাঁকে সহযোগিতা করছেন সহকারী কমিশনার আছাবুর রহমান, সহকারী কমিশনার জোসেফ মঞ্জুর চৌধুরী, পরিদর্শক নাহিদ হাসান সুমনসহ ডিবির একটি বিশেষ দল।তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্য, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনাস্থল ও ঘটনার বিবরণের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল নেই।


তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে প্রিজন ভ্যানটি কাশিমপুরের দিকে ফেরার পথে ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকার পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে থামে। সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নেন। এরপর পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে খাইরুল বাশার প্রিজন ভ্যানের চালকের আসনের পাশে বসেন। তবে পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার ভ্যানে ওঠেননি। তদন্তে পাওয়া তথ্য বলছে, ওই সময় আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
এরপর এসআই প্রবীর কুমার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাইমাইলের কথিত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন। পরে স্কট পার্টির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এজাহারে বর্ণিত পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাজানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, ওই তদন্তে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।


পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, পুলিশের দায়িত্ব হলো প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। এ ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে ডিবির তদন্ত দলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.