
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের হেলপার সুজন মিয়া নিহতের ঘটনায় দীর্ঘ আড়াই বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া কাভার্ড ভ্যানচালক মোঃ রাশেদকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ জুন ভোর ৫টার দিকে নিহত সুজন মিয়া (২৫) অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের হেলপার হিসেবে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বাসটি গাজীপুরের সদর থানাধীন রাজেন্দ্রপুরের হোটেল এক্স সংলগ্ন ইউটার্ন এলাকায় ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে পৌঁছায়।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৫১৩৩) বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে চালিয়ে বাসটির সামনের অংশে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের বাম পাশের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা হেলপার সুজন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে বাসের যাত্রীরা তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।দুর্ঘটনায় বাস ও কাভার্ড ভ্যান দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসাঃ সানজিদা আক্তার মিম (২২) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় মামলা করেন। ২০২৪ সালের ২৪ জুন দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৪৩। মামলাটি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮/১০৫ ধারায় করা হয়।
পরে সদর থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই গাজীপুর জেলা। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই গাজীপুর জেলার এসআই (নিঃ) মোঃ জুয়েল হোসেন। পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক কাভার্ড ভ্যানচালক মোঃ রাশেদকে শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার সাভার থানাধীন কলমা এলাকার উইন্টার গার্মেন্টসের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ৫ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় মোঃ রাশেদ (২২) কাভার্ড ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন। তার বেপরোয়া ও দ্রুতগতির চালনার কারণে বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং বাসের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুজন মিয়া গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। দুর্ঘটনার পর রাশেদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার, পিপিএম-সেবা বলেন, “নিরাপদ সড়ক ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকদের সচেতনতা প্রয়োজন। সড়কে এ ধরনের মৃত্যু কারও কাম্য নয়। গ্রেপ্তারকৃত চালককে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার অন্যান্য দিক ও আলামত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।”
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামাল, বিপিএম-সেবা-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার, পিপিএম-সেবা-এর তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জুয়েল হোসেনের নেতৃত্বে পিবিআই গাজীপুর জেলার বিশেষ তদন্ত টিম আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

Leave a Reply