আরব আমিরাতকে ভালোবাসার বার্তা দিতে আবুধাবি দূতাবাসের ব্যতিক্রমী আয়োজন

আরব আমিরাতকে ভালোবাসার বার্তা দিতে আবুধাবি দূতাবাসের ব্যতিক্রমী আয়োজন

মোহাম্মদ আরমান চৌধুরী আরব আমিরাত প্রতিনিধি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবি। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাগতিক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেছেন, আমিরাতের মাটিতে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিশুরা শিকড়ে বাংলাদেশি হয়েও স্বগর্বে লাল-সবুজের ঐতিহ্য ধারণ করবে এবং আমিরাতের সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা নিয়ে বড় হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

গত শনিবার রাতে আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘I Love Bangladesh, I Love UAE’ শীর্ষক আর্টওয়ার্ক প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিশু ও কিশোর শিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্কুলটির চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারী ১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে আর্থিক মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

বিজয়ী শিশুশিল্পী ও কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের অন্যতম ভিত্তি হলো দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতা। অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দুই দেশের চিরন্তন মৈত্রী ও অব্যাহত সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, শিশু-কিশোরদের শিল্পচর্চা এবং মেধার যথাযথ বিকাশ একটি সচেতন, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বক্তারা আরও বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা, নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়বোধ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জাগিয়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ উদ্যোগের জন্য তাঁরা বাংলাদেশ দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ লেডিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহ্য তুলে ধরে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।

এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দুই দেশের সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.