পরিবেশবান্ধব বাঁশের পণ্য তৈরি করে স্বাবলম্বী মিনতী

পরিবেশবান্ধব বাঁশের পণ্য তৈরি করে স্বাবলম্বী মিনতী

কয়রা(খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার উপকূলীয় জনপদ কয়রার অদম্য ঋষি পরিবারের সংগ্রামী নারী মিনতী এখন সফল উদ্যোক্তা। দারিদ্র্য আর সংসারের চাপের মধ্যে জীবনযুদ্ধ শুরু করলেও, নিজের দৃঢ় মনোবল আর পরিশ্রমে তিনি বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য।
মিনতী বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব পণ্য—যেমন ঝুড়ি, ডালা, হাতপাখা, ফুলদানি, মাছ ধরার চাঁই, চাটাই,শোপিসসহ ঘর সাজসজ্জার নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার এসব পণ্যের চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রচীন এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য উপজেলার মজারাপুর ইউনিয়নের হায়াতখালী বাজারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবপল্লব প্রকল্পের (প্রাক্টিক্যাল এ্যকশন) এর সহযোগীতায় বাঁশ দিয়ে তৈরী জিনিসপত্র তৈরী করে বিক্রি করছেন মিনতি দাসী ও তার স্বামী বিমল কৃষ্ণ দাস।

মিনতি দাসী বলেন, আমরা ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের যেকোন স্থানে কাজে নেয়া হয়না আবার এলাকায় তেমন কোন কাজ কর্ম না থাকায় দিন মুজুরের কাজ করে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হত । প্রথমে তার স্বামী সংসারের অভাব ঘুচাতে দিন মুজুরির পাশাপাশি বাঁশ দিয়ে হাতে তৈরি কিছু জিনিসপত্র তৈরি করে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করতো। কিন্তু হঠাৎ একদিন প্রাক্টিক্যাল এ্যাকশনের কর্মীরা আমার বাড়িতে এসে আমার এই কাজ দেখে হস্থশিল্প উদ্যোক্তা হিসাবে আর্থিক সহায়তা করেন।

মিনতি আরও বলেন শুরুতে অনেক কষ্ট ছিল, কিন্তু হাল ছাড়িনি। এখন নিজের আয় দিয়ে সংসার চালাতে পারছি ।

প্রাক্টিক্যাল এ্যাকশনের কমিউনিটি সুপারভাইজার খাদিজা সুলতানা( সাথী) বলেন, ঋষি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বিমল কৃষ্ণ দাস ও তার স্ত্রী মিনতি দাসী দুজনেই বাঁশে দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে বেশ দক্ষ। আমার প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করণে সহযোগীতা করছি।এভাবে সমাজে পিছিয়ে পড়া অনাগ্রসর একটা পরিবারকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে এবং বিলুপ্ত প্রায় পেশা কে সামনে রেখে নবপল্লব প্রকল্পের মাধ্যমে মিনতি দাসীর পরিবার আজ নতুনভাবে আর্থিক সংকট দূর করার স্বপ্ন দেখছে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন , এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাড়লে যেমন প্লাস্টিক দূষণ কমবে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.