জনি হাসান
সারাদেশে উৎসবমুখর কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এই মহাযজ্ঞ শুরু হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম বড় কোনো পাবলিক পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
পরীক্ষার্থী সংখ্যা ও কেন্দ্র
এ বছর দেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এবারের পরিসংখ্যানে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এবার নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে না। ড্রপআউটের এই উচ্চ হার নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিমধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রুটিন অনুযায়ী, তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। যানজট ও পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ এড়াতে শিক্ষা বোর্ড থেকে সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে কক্ষের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়মাবলিই বহাল রয়েছে।
পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, আইসিটি বিষয় বাদে অন্য সব বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনি (MCQ) এবং পরে সৃজনশীল (রচনামূলক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই দুই অংশের মাঝে কোনো বিরতি থাকছে না। এছাড়া উত্তরপত্রের গুণগত মান বজায় রাখতে ও ডিজিটাল মূল্যায়নের সুবিধার্থে উত্তরপত্র কোনোভাবেই ভাঁজ না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জিরো টলারেন্স নীতি ও শাস্তির বিধান
পরীক্ষায় নকল ও অনিয়ম রোধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষার্থীদের জন্য মোট ১৯ ধরনের অপরাধ চিহ্নিত করে তিন স্তরে শাস্তির বিধান করা হয়েছে:
১. সাধারণ অপরাধ: পরীক্ষা কক্ষে কথা বলা, বেঞ্চ বা পোশাকে কিছু লেখা, ক্যালকুলেটরে তথ্য জমা রাখা বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখলে চলতি বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
২. মধ্যম পর্যায়ের অপরাধ: প্রশ্ন বা উত্তরপত্র বাইরে পাচার করা, দায়িত্বরত শিক্ষককে হুমকি দেওয়া বা উত্তরপত্র জমা না দিয়ে হল ত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর এ বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর পরীক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ থাকবে।
৩. গুরুতর অপরাধ: অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া (প্রক্সি), রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরিবর্তন, উত্তরপত্র বিনিময় বা কেন্দ্রে হামলা ও অস্ত্র প্রদর্শনের মতো অপরাধে সরাসরি দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাঠে সক্রিয় ভিজিল্যান্স টিম
ডিজিটাল জালিয়াতি এবং প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ঠেকাতে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে একাধিক ‘ভিজিল্যান্স টিম’। এই টিমগুলো আকস্মিকভাবে যে কোনো কেন্দ্রে অভিযান চালাতে পারছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরীক্ষা উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply