নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের শ্রীপুরে শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ শ্রীপুরে শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ: বহিষ্কৃত ৬ বিএনপি নেতা-কর্মীএবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ৬ নেতা-কর্মীকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শ্রীপুরের ‘বাঁশবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’-এর একটি বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অবতারণা করেন। অভিযোগ উঠেছে, তারা সেখানে উপস্থিত শিক্ষকদের সাথে অত্যন্ত অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। উক্ত ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারকদের নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দলের আদর্শ ও স্বার্থ পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ১নং ওয়ার্ড বিএনপির নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গকে বহিষ্কার করা হয়েছে:
১. মো: সারোয়ার আউয়াল (সাবেক সাধারণ সম্পাদক), ২) আ: মান্নান মাস্টার (সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক),৩) মো: হাসমত আলী হাসু (সাবেক যুগ্ম সম্পাদক),৪) মো: আরমান আলী (সদস্য),৫) মো: মাহবুব আলম (সদস্য),৬) মো: রফিকুল ইসলাম (সদস্য)।
দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব আব্দুল মোতালেব এবং সদস্য সচিব আলহাজ্ব খাইরুল কবির মন্ডল (আজাদ) স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়েছে যে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়:”দলীয় গঠনতন্ত্রের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে উপরোক্ত ব্যক্তিদের ২নং গাজীপুর ইউনিয়নের সকল পদসহ বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো। ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ হতে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা আপসহীন। শিক্ষকদের মতো সম্মানীয় ব্যক্তিদের সাথে দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে দলের কেউ এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় অপরাধীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করার সাহস পাবে না।

Leave a Reply