দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শনে ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শনে ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান

মোহাম্মদ আরমান চৌধুরী, আরব আমিরাত প্রতিনিধি


মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে স্থিতিশীলতা ফেরার আবহে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) পরিদর্শন করেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স এবং দুবাই এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই ভ্রমণ কেন্দ্রটির কার্যক্ষমতা বজায় রাখা এবং যাত্রী পরিষেবার মান সরেজমিনে দেখার জন্য তিনি এই সফর করেন।

​দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টানা ১২ বছর ধরে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের এক নম্বর স্থানটি ধরে রেখেছে। শেখ হামদানের এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল, বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপ সামলে কীভাবে বিমানবন্দরটি তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখছে, তা মাঠ পর্যায়ে খতিয়ে দেখা। পরিদর্শনকালে তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল ঘুরে দেখেন এবং যাত্রী ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

​সফরের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল দুবাই পুলিশ অপারেশনস সেন্টার পরিদর্শন। সেখানে দায়িত্বরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্রাউন প্রিন্সকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট সিস্টেম’ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করেন। এই সিস্টেমগুলো স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। শেখ হামদান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে কীভাবে ট্রাফিক ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

​পরিদর্শনকালে শেখ হামদান এমিরেটস এয়ারলাইন দলের সাথেও বিশেষ বৈঠক করেন। উল্লেখ্য যে, এমিরেটস বর্তমানে বিশ্বের ৬৫টি দেশের ১২৩টি গন্তব্যে তাদের পরিষেবা পরিচালনা করছে। বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং যাত্রীদের আরামদায়ক ও বিলাসিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এমিরেটসের যে বৈশ্বিক সুনাম রয়েছে, সেটি ধরে রাখার জন্য তিনি কর্মীদের উৎসাহ প্রদান করেন।

​শেখ হামদানের এই সফর কেবল দাপ্তরিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দুবাইয়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই যুবরাজকে কাছে পেয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত সাধারণ যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। বিমানবন্দরের বারান্দা থেকে শুরু করে জানালার পাশে—একাধিক তলায় মানুষের ভিড় জমে ওঠে। শেখ হামদান যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন চারপাশ থেকে আসা করতালি ও হর্ষধ্বনির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়। অনেক পর্যটক ও স্থানীয় নাগরিক এই বিশেষ মুহূর্তটি তাদের মুঠোফোনে ধারণ করেন।

​পরিদর্শনের এক পর্যায়ে শেখ হামদানকে এমিরেটস এয়ারলাইন এবং এমিরেটস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুমের সাথে একটি অত্যন্ত আন্তরিক মুহূর্তে দেখা যায়। প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও তাঁদের মধ্যে এক ধরণের রসিকতা ও হালকা মেজাজের আলাপচারিতা প্রত্যক্ষদর্শীদের নজর কেড়েছে। শেখ হামদানকে কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গিতে শেখ আহমেদের কাঁধে হাত রাখতে দেখা যায়, যা সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে হাসির রোল তুলে দেয়। এটি ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত সফরের মাঝে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সৌহার্দ্যের এক বিরল প্রতিচ্ছবি।

​দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্সের এই সফর কেবল একটি নিয়মিত পরিদর্শন নয়, বরং এটি বিশ্বকে এই বার্তা দেয় যে দুবাই যে কোনো পরিস্থিতিতে তাদের বৈশ্বিক যোগাযোগ কেন্দ্র এবং পর্যটন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে বিমান চলাচলের স্বাভাবিকতা ফেরার এই সময়ে শেখ হামদানের উপস্থিতি যাত্রী ও বিমানসংস্থাগুলোর মনে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.