আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
গাজীপুরের শ্রীপুরে সময়ের বিবর্তনে বদলে যাচ্ছে কাঁঠালের চিরচেনা দৃশ্যপট। অপরিকল্পিত শিল্পায়ন আর নগরায়নের থাবায় উপজেলার অনেক এলাকায় কাঁঠালের ফলন বিপর্যয় দেখা দিলেও, নির্দিষ্ট কিছু ইউনিয়নে এখনো টিকে আছে জাতীয় ফলের বিশাল সমারোহ। মূলত এই এলাকাগুলোর কারণেই শ্রীপুর এখনো দেশের ‘কাঁঠালের রাজধানী’ হিসেবে নিজের নাম ধরে রেখেছে।
উপজেলার বড় বড় কাঁঠালের বাজারগুলোতে এখনো বেচাকেনা শুরু হয়নি। গাছগুলোতে কাঁঠাল পরিপক্ক হতে শুরু করলেও তা পুরোপুরি খাওয়ার উপযোগী বা বাজারে নামানোর সময় এখনো হয়নি। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলতি মাসের শেষের দিকেই শ্রীপুরের বাজারগুলোতে কাঁঠালের সরবরাহ বাড়বে এবং এর মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হবে পুরো জনপদ।
উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নে এক সময় কাঁঠালের ব্যাপক ফলন হলেও এখন তা আগের চেয়ে অনেক কম। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় যত্রতত্র মিল-ফ্যাক্টরি গড়ে ওঠায় এবং প্রাচীন কাঁঠাল গাছগুলো নির্বিচারে কেটে ফেলার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীপুর পৌর এলাকায় নগরায়নের প্রভাবে উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণ হওয়ায় সেখানে কাঁঠাল গাছ এখন বিলুপ্তির পথে। এলাকাবাসী মনে করছেন, ছায়া সুনিবিড় প্রাচীন গাছগুলো হারিয়ে যাওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ফলন শূন্যের কোঠায় নামছে।
ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বারতোপা ও গাজীপুর ইউনিয়ন উপজেলার সর্বত্র ফলন কমলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মাওনা ইউনিয়নের বারতোপা এলাকা এবং গাজীপুর ইউনিয়নে। এসব এলাকায় এখনো আগের মতোই গাছের ডালে ডালে প্রচুর কাঁঠাল ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এখানকার মাটি ও পরিবেশ এখনো তুলনামূলক অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক। কৃষি সংশ্লিষ্ট ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই দুই ইউনিয়নের বাম্পার ফলনই মূলত শ্রীপুরকে এখনো কাঁঠালের রাজধানী হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।
শিল্পায়নের ফলে একদিকে যেমন আবাদি জমি কমছে, অন্যদিকে দূষণে গাছের সতেজতা হারাচ্ছে। তবে বারতোপা ও গাজীপুর ইউনিয়নের কৃষকরা এখনো পরম মমতায় তাদের বাগানগুলো আগলে রেখেছেন। বাগান মালিকদের মতে, সরকারিভাবে যদি চারা বিতরণ ও উন্নত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে শ্রীপুরের এই হারানো গৌরব আবারো পুরো উপজেলাজুড়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
জাতীয় ফলের মৌসুমে পাইকার ও আড়তদারদের আনাগোনা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বিশেষ করে মাওনা ও বারতোপা এলাকার কাঁঠালের স্বাদের টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরের মতো এবারও ভিড় জমাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply