
আজিজুল হক, গোমস্তাপুর (:চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিফ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা চত্বরে কৃষকদের মাঝে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাকলাইন হোসেন। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও কৃষকদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার লাবনী, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব, ইব্রাহিম খলিল, আব্দুল আওয়াল, মমিনুল ইসলাম, প্রমূখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূলত রোপা আমন, পেঁয়াজ কন্দ, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি এবং লেবু ও বিভিন্ন গাছ/বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।
চলতি মৌসুমে উপজেলার তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হবে।
রোপা আমন ধান (উফশী): মোট ৩০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ০১ বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি রোপা আমন (উফশী) ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে।
পেঁয়াজ বীজ (কন্দ): মোট ৪০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ২০ শতক জমির জন্য ১৬০ কেজি পেঁয়াজ (কন্দ) বীজ, ২০ কেজি ডিএপি, ২০ কেজি এমওপি সার, ১ কেজি বালাইনাশক এবং ১টি সংরক্ষণ পাত্র দেওয়া হচ্ছে।
গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি: মোট ১৮০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ১৬০ গ্রাম কলমি শাক, ১৫ গ্রাম লাউ, ৫ গ্রাম চালকুমড়া, ১০০ গ্রাম পুঁইশাক, ৫ গ্রাম বেগুন, ১০ গ্রাম মিষ্টিকুমড়া, ৫ গ্রাম শশার বীজ এবং সাথে ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে।
গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ: মোট ৯৫০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ১ বিঘা জমির জন্য ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার এবং প্রয়োজনীয় পলিথিন ও বালাইনাশক দেওয়া হচ্ছে।
লেবু চাষ: মোট ২৫ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫টি করে লেবুর চারা ও ৩০ কেজি জৈব সার দেওয়া হচ্ছে।
গাছ/বৃক্ষের চারা: এই খাতে নির্ধারিত কৃষকদের মাঝে প্রতিজনকে ১টি করে চারা, ৩০ কেজি জৈব সার এবং বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হচ্ছে (মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪,৪৮০টি)।
উদ্বোধনের প্রধান অতিথি ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের এই সময়োপযোগী প্রণোদনার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উপজেলার কৃষকরা লাভবান হবেন এবং অঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের সামগ্রিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply