
স্টাফ রিপোর্টার,মোঃ রেজাউল হক কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়কের সংস্কার কাজ দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ। এ নিয়ে রবিবার সকাল ১১ ঘটিকায় রাজারহাট সোনালী ব্যাংক চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
’রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, রাজারহাট উপজেলা শাখা’-র আয়োজনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে কমিটির নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংক মোড় থেকে ফরকেরহাট হয়ে আনন্দবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই ১২ কিলোমিটার সড়কটি ঐ অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রায় ১৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই বৃহৎ সংস্কার প্রকল্পটি গত ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখের মধ্যে শেষ করার চুক্তি ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘খায়রুল কবির রানা’-র চরম অবহেলায় কাজটির কোনো অগ্রগতি তো হয়ইনি, উল্টো দীর্ঘ দেড় বছর ধরে রাস্তাটি খুঁড়ে ফেলে রাখায় এটি বর্তমানে একটি চরম ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাস্তা খুঁড়ে রাখার ফলে উড়ন্ত ধুলোবালির কারণে এই পথে যাতায়াতকারী স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানা বিধ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এই সুযোগে রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে, যা নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বারবার চিঠি দিলেও রহস্যজনক কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখতে এবং বৃহত্তর রাজারহাটের মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে আরও কঠোরতর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সংগঠক খন্দকার আরিফ,তারেক রহমান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

Leave a Reply