শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের বলি স্ত্রী, শ্রীপুরে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামী পলাতক

শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের বলি স্ত্রী, শ্রীপুরে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামী পলাতক


আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর):

গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নাছিমা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী দুই সন্তানকে ফেলে রেখে পলাতক রয়েছেন।

‎​রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী বেরাইদেরচালা এলাকার মজনুর বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নাছিমা আক্তার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার খৈলাসপুর বনপড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। তিনি শ্রীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

‎​নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গিদাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাইদুল ইসলামের সঙ্গে নাছিমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সামিয়া (১০) ও সিজান (৪) নামে দুই সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল। গত ছয় মাস আগে বিরোধের জেরে নাছিমা সন্তানদের নিয়ে শ্রীপুরে চলে আসেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়ে বসবাস শুরু করেন। প্রায় এক মাস আগে সাইদুলও তাদের কাছে এসে একই বাসায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু একসঙ্গে থাকার পরও তাদের বিরোধের অবসান হয়নি।

‎​নিহতের ভাবি নার্গিস আক্তার জানান, গভীর রাতে কান্নার শব্দ শুনে তারা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং দ্রুত নাছিমার কক্ষে যান। সেখানে নাছিমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই স্বামী সাইদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
‎​খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত সংগ্রহ করেছে।

‎​এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এবং তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত জানা যাবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.