মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে অনিরাপদ দখলের উৎসব- ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে মাওনা চৌরাস্তা

মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে অনিরাপদ দখলের উৎসব- ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে মাওনা চৌরাস্তা

আশিকুর রহমান সবুজ,​বিশেষ প্রতিনিধি:


‎ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা। দীর্ঘদিন ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে রাখা অবৈধ দোকানপাটের কারণে এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল চরম যানজট ও পথচারীদের সীমাহীন ভোগান্তি।

‎​সম্প্রতি মাওনা চৌরাস্তার ইজারা বাতিল এবং হাইওয়ে পুলিশের কঠোর অভিযানের পর ফুটপাত কিছুটা দখলমুক্ত হলেও সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ফুটপাত থেকে উৎখাত হওয়া অবৈধ দোকানগুলো এখন নতুন ঠিকানা বানিয়েছে মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর (ফ্লাইওভার) নিচের অংশকে।

‎​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফ্লাইওভারের নিচের উন্মুক্ত স্থান জুড়ে নতুন করে গড়ে উঠেছে চা-পান, ফাস্টফুড, কাপড় ও জুতার পসরা। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো—ফাস্টফুড ও চায়ের দোকানগুলোতে খোলা জায়গায় দেদারসে ব্যবহার করা হচ্ছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। কোনো প্রকার নিরাপত্তা পরিকল্পনা ছাড়াই ব্যস্ততম এই উড়ালসেতুর নিচে এভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মতো প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‎​এদিকে ফ্লাইওভারের নিচ এভাবে পুনর্দখল হওয়া নিয়ে উঠেছে অবৈধ চাঁদা বাণিজ্যের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে—স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহলকে উৎকোচ দিয়ে প্রতিটি দোকান বা চৌকি বসানো বাবদ নেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত এককালীন নজরানা। তবে হয়রানি ও উচ্ছেদের ভয়ে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো দোকানদার মুখ খুলতে রাজি হননি।

‎​এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল জানান, উচ্ছেদ ও চাঁদাবাজির চক্র বন্ধ করতে হলে উড়ালসেতুর নিচে একটি নির্দিষ্ট নিয়মনীতির মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে দোকান বসানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যেন সরকার সেখান থেকে নিয়মিত রাজস্ব পায়। এতে করে অসাধু চক্রের পকেটে চাঁদা বা মাসোহারা যাওয়া বন্ধ হবে এবং পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মারামারি ও হানাহানির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আগেভাগেই রদ করা সম্ভব হবে। তবে অবশ্যই সিলিন্ডার ও অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।

‎​মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, “মাওনা চৌরাস্তায় যখন বাজার বসতো তখন দীর্ঘ যানজট লেগে থাকতো। গাজীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সহযোগিতায় ইজারা বাতিল করা সম্ভব হয় এবং ফুটপাত উচ্ছেদ করতে সক্ষম হই, যার ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসে। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ লক্ষ করা যাচ্ছে ফুটপাতের দোকানগুলো আবার ফ্লাইওভারের নিচে বসতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে অবগত করা হবে এবং খুব দ্রুতই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎​এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাহিদ ভূঞা জানান, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এই বিষয়ে কোনো উচ্ছেদ বা শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

‎​অবিলম্বে মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচের এই অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ দখলদারিত্ব বন্ধ করতে এবং নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সাধারণ পথচারী ও সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.