নেটওয়ার্ক ছাড়াই কথা বলা যাবে ইনফিনিক্সের ‘আল্ট্রালিংক’ প্রযুক্তিতে

নেটওয়ার্ক ছাড়াই কথা বলা যাবে ইনফিনিক্সের ‘আল্ট্রালিংক’ প্রযুক্তিতে

অনলাইন ডেস্ক

কাছাকাছি দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক হারিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। পাহাড়ে হাইকিংয়ের সময় বা অচেনা কোনো জায়গায় ঘুরতে গিয়ে বন্ধুদের দল একটু ছড়িয়ে পড়লেই অনেক সময় নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যেতে হয়। আবার সামান্য দুর্বল সিগন্যালের কারণে জরুরি একটি ফোন করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে একে অপরের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ টিকিয়ে রাখা বেশ বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

এই সমস্যার সমাধানে এবার স্মার্টফোনে পরিচিত প্রযুক্তির নতুন প্রয়োগ নিয়ে এসেছে ইনফিনিক্স। তাদের ‘আল্ট্রালিংক’ ফিচারের মাধ্যমে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইসগুলো মোবাইল টাওয়ারের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। এর জন্য কোনো সিমের সিগন্যাল বা ইন্টারনেট প্রয়োজন হবে না। দুটি আল্ট্রালিংক সক্ষম ডিভাইস সহজেই সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।

ইনফিনিক্সের ইন-হাউস ল্যাব টেস্ট অনুযায়ী, খোলা পরিবেশে এবং ডিভাইসগুলোর মধ্যে কোনো বাধা না থাকলে ইনফিনিক্স হট ৭০ প্রো ৫জি ফোনটি সর্বোচ্চ ১.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে এই সংযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবেশভেদে এই দূরত্বের তারতম্য হতে পারে।

যেসব জায়গায় প্রচলিত নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না বা দুর্বল থাকে, সেখানে এই প্রযুক্তি দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দুর্গম এলাকায় ট্র্যাকিং করা ট্রেকার, অচেনা শহর বা এলাকা ঘুরতে যাওয়া ভ্রমণকারী কিংবা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়া বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই যোগাযোগ রাখতে পারবেন।

নেটওয়ার্কের জন্য অপেক্ষা না করে আল্ট্রালিংক প্রযুক্তির সাহায্যে ফিচারটি সাপোর্ট করে এমন ডিভাইসগুলো নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিজেদের মধ্যেই সরাসরি সংযোগ তৈরি করে নিতে পারে। শুধু কল করা ছাড়াও এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি ডিভাইসের মধ্যে টেক্সট মেসেজ ও ছবি আদান-প্রদান করতে পারবেন, যা সংযুক্ত থাকার পাশাপাশি নানা আপডেট ও মুহূর্তগুলো শেয়ার করার জন্য বেশ কাজে দেবে।

হট ৭০ সিরিজ, নোট ৬০ সিরিজ এবং স্মার্ট ২০ ফোনের এই তিনটি সিরিজে আল্ট্রালিংক সুবিধা পাওয়া যাবে, যা আরও বেশি ব্যবহারকারীর হাতে এই প্রযুক্তি পৌঁছে দিচ্ছে।

স্মার্টফোন উদ্ভাবনে দীর্ঘদিন ধরে মূলত ক্যামেরা, প্রসেসর, ডিসপ্লে এবং ব্যাটারি লাইফের ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়ে আসছে। তবে ইনফিনিক্সের আল্ট্রালিংক একটি মৌলিক জায়গায় গুরুত্ব দিয়েছে—আর তা হলো প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলেও ফোনের মূল কাজ অর্থাৎ যোগাযোগ টিকিয়ে রাখা নিশ্চিত করা।

এটি নেটওয়ার্কের কোনো বিকল্প নয়, তবে সিগন্যাল না থাকলে ফিচারটি সাপোর্ট করে এমন ফোনগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের বাড়তি মাধ্যম হিসেবে এটি ব্যবহার করতে পারে। পাহাড়ে ঘোরার সময়, নতুন কোনো জায়গায় কিংবা আপনজনদের সঙ্গে আড্ডায় আল্ট্রালিংক আপনার যোগাযোগকে রাখে সচল ও ঝামেলামুক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.