
প্রতিবেদক: মোঃ রাকিব হোসেন
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরানে আবাসিক এলাকায় একটি শত্রুপক্ষের প্রজেক্টাইল আঘাত হানার ঘটনায় ছয়জন সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনটি বাড়ি ও তিনটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রজেক্টাইলটি নাজরানের একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং আবাসিক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে আহতদের শারীরিক অবস্থা, তাঁদের আঘাতের মাত্রা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির আর্থিক মূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার পেছনে কারা?
সৌদি সিভিল ডিফেন্সের মূল বিবৃতিতে প্রজেক্টাইলটিকে শত্রুপক্ষের নিক্ষেপ করা বস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে এ ধরনের হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের পরিচয়, প্রজেক্টাইলটি কোথা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এখনো সীমিত।সৌদি কর্তৃপক্ষ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এ ধরনের হামলা বেসামরিক মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে বেসামরিক জনগণ ও স্থাপনার সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে আনে।
নাজরান কেন বারবার নিরাপত্তা আলোচনায়?
নাজরান সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইয়েমেনের সংঘাতের প্রভাব অতীতেও এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পড়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা সংঘাতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।২০১৮ সালে সৌদি কর্তৃপক্ষ নাজরান অঞ্চলের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর জানিয়েছিল। একই বছর সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনাও সামনে আসে। এসব ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সতর্কতা জারি করেছে।২০১৯ সালের ১২ জুন দক্ষিণ সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দরের আগমন এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার ঘটনায় ২৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন বলে সে সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল। একই বছরের জুলাই মাসে আভা বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় নয়জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ওই সময় হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলার দাবিও করেছিল।অতীতের এসব ঘটনা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তাঝুঁকির ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। তবে আগের হামলাগুলোর সঙ্গে ১৮ অক্টোবর নাজরানে ঘটে যাওয়া ঘটনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
একই দিনে নাজরানে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
১৮ অক্টোবর নাজরান অঞ্চলে আরেকটি পৃথক দুর্ঘটনার খবরও সামনে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের ব্যবহৃত একটি AH-6i হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু সদস্য নিহত হন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।অন্যদিকে, হুথি গোষ্ঠী হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করার দাবি করেছিল বলে পৃথক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সৌদি পক্ষ ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানায়। ফলে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি আবাসিক এলাকায় প্রজেক্টাইল আঘাতের ঘটনা থেকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। দুটি ঘটনা একই হামলার অংশ—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
নাজরানের আবাসিক এলাকায় প্রজেক্টাইল আঘাতের সর্বশেষ ঘটনা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রভাব সামরিক স্থাপনার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের আঘাত প্রাণহানি, সম্পত্তির ক্ষতি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন এবং তিনটি বাড়ি ও তিনটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রজেক্টাইলটির সুনির্দিষ্ট ধরন, নিক্ষেপের স্থান, হামলা প্রতিহত করার কোনো চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।ঘটনাটি সম্পর্কে নতুন সরকারি বিবৃতি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশিত হলে হতাহতের অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হামলার উৎস সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তথ্যসূত্র
সৌদি সিভিল ডিফেন্সের বিবৃতি, সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA), সৌদি প্রেস এজেন্সি,আরব নিউজ,আনাদোলু এজেন্সি,কাতার নিউজ এজেন্সি,আল জাজিরা,রয়টার্স-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন।

Leave a Reply