রাজশাহীতে হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণে তদন্ত কমিটি, আপাতত কেজিতে ছয় টাকা

রাজশাহীতে হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণে তদন্ত কমিটি, আপাতত কেজিতে ছয় টাকা


লিয়াকত হোসেন

রাজশাহীতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলীকে। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত আগের নিয়মে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা হারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার (১২ জুন) বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, “হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নিয়ে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের নিয়মে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা বহাল থাকবে।”


জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া এবং আলু পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে আলু ব্যবসায়ী, চাষি প্রতিনিধি ও হিমাগার মালিকদের নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি সভা ডাকা হয়। সভায় আলু সংরক্ষণ, হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ব্যয় এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রাখেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ঘোষণা ছিল, ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা হিমাগার থেকে আলু বের করবেন না। চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, হিমাগারের প্রকৃত খরচ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। ভাড়া না কমালে উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ বেড়ে যাবে। এতে চাষি, ব্যবসায়ী এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।


রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, “এক বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে মালিকপক্ষের সর্বোচ্চ খরচ হয় ১০০ টাকা। কিন্তু চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪৭৫ টাকা। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাই আমরা ভাড়া পুনরায় নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি।”


অন্যদিকে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, “গত বছর ভাড়া বৃদ্ধি হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। তাঁরা সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত মূল্যে আলু রাখতে চাননি। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অনেক ছাড় দিয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন আবার তাঁরা ভাড়া কমানোর দাবি করছেন। তবে বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া যৌক্তিকভাবেই বৃদ্ধি করা হয়েছিল।” সভায় জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হাসেন আলীসহ রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন এবং রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.